প্রতিবন্ধী ও অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, বিনোদন ও স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে পাবনায় দিনব্যাপী নানা মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রোটারি ক্লাব অব পাবনার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং চলাচলের অনুপযোগী অটোরিকশা মেরামত করে পুনর্চলন উপযোগী করা হয়।
রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডি-৩২৮৪-এর ‘প্রাথমিক শিক্ষা ও সাক্ষরতা’ প্রকল্পের আওতায় শনিবার (৩ অক্টোবর) পাবনা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটা. আলহাজ মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রোটা. পিপি খন্দকার মোবিদুর রহমান, পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক রোটা. এ এইচ এম রেজাউন জুয়েল এবং সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
রোটারি ক্লাব অব পাবনার প্রেসিডেন্ট রোটা. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটা. আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের আইপিপি রোটা. গোলাম হাসনায়েন বিপ্লব, ক্লাব সেক্রেটারি রোটা. শফিকুর রহমান শান্ত, রোটা. আসাদুজ্জামান খোকন, জিয়াউর রহমান বিশ্বাস জিউ, রোটা. রফিকুল ইসলাম, রোটা. ড. আহমেদ মেহেদী, রোটা. আলমগীর হোসেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশিদা আক্তারী রিপা।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে সময় কাটান এবং তাদের সাথে বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই-খাতা, ক্রীড়া সামগ্রী, খেলনা ও পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অচল অটোরিকশাটি মেরামত। দীর্ঘদিন বিকল হয়ে পড়ে থাকা গাড়িটিতে নতুন ব্যাটারি সংযোজনসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ মেরামত করে সচল করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘব হলো এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম বেগবান হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকেরা ব্যক্ত করেন, সমাজ ও শিক্ষার মূলধারায় প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ ধরনের মানবিক সামাজিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রোটারি ক্লাব অব পাবনার নেতৃবৃন্দ।
পড়ুন:হেলমেট ছুড়ে ফেললেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান
ইমি/


