কালাইয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সৎমাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ফাতেমা বেগম (৫০) নামে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সৎমাকে হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সতিনের ছেলেদের বিরুদ্ধে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার পুনট ইউনিয়নের মাদাই খরপা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাতেমা বেগমের স্বামী খয়বর আলী (৮৫) দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সৎমায়ের ভরণপোষণ ও দেখভাল নিয়ে ছেলেদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। এর জেরে গত বৃহস্পতিবার রাতে সৎছেলে আব্দুল খালেক, আব্দুল খলিল ও তাদের স্ত্রীরা ফাতেমাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার সামনের দাঁত ভেঙে যায় এবং বুক, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। অমানবিকতার এখানেই শেষ নয়; মারধরের পর রাতে তার হাত-পা বেঁধে বাড়ির বাইরে তেঁতুলগাছের নিচে ফেলে রাখা হয়।

পরদিন শুক্রবার দুপুরে প্রতিবেশীরা ফাতেমাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বগুড়ায় স্থানান্তর করা হয়।

ভুক্তভোগীর ভাই আলম হোসেন বলেন, আমার বোনকে নিয়মিতই মারধর করা হতো। এ নিয়ে বহুবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে বোনের এই করুণ অবস্থা দেখতে পাই।

তবে অভিযুক্ত সৎছেলে আব্দুল খলিলের দাবি, তার ভাই খালেক সৎমাকে ধরে রেখেছিলেন এবং অসুস্থ বাবা তাকে মারধর করেছেন। যদিও হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বিএনপির নাম ভাঙিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন