রাজশাহী শিক্ষা নগরী হলেও এখন মনে হচ্ছে কোচিং নগরীসরকারী ও এমপিও শিক্ষকরা কোচিং বানিজ্যে

রাজশাহী শিক্ষা নগরী হলেও এখন মনে হচ্ছে কোচিং নগরী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোচিং ও প্রাইভেট হোম গুলো বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। সরকারী ও এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুল ও কলেজ না গেলেও কোচিং নিয়মিত করছে। জেলা শহর ও ৯টি উপজেলার চিত্র একই ভাবে প্রমান বহন করছে।
শিক্ষা মন্ত্রীর ভর্তি পরিক্ষা ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় সরকারী এবং এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং বানিজ্যে মেতে উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারী ও এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠিানের শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময় পাঠদান দিচ্ছেন। এই সকল কিছু প্রমান থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও নির্বাহী অফিসার দেখেও না দেখার ভান করছেন।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন মহলের সচেতন নাগরীকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ সময় লটারি পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরিক্ষা চালু ছিল। যার কারনে কোচিং বানিজ্য বন্ধ ছিল। বর্তমান শিক্ষকরা কোচিং সেন্টারকে আহারের মূল উৎস্য হিসাবে ধরে নিয়েছে। তাদের কর্মস্থলে কৌশল হাজিরা থাকলেও বেশির ভাগ সময় তারা কোচিং সেন্টারে সময় ব্যয় করছেন।

রাজশাহী জেলা শহর ও ৯টি উপজেলার বিভিন্ন সরকারী প্রথামিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শিক্ষক তাদের নিজস্ব কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। জেলার চারঘাট, বাঘা, তানোর, পুঠিয়া, দূর্গাপুর, বাঘমারা, পবা, মোহনপুর ও গোদাগাড়ী উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় কোচিং এর বিচারন প্রমান পাওয়া যায়।

স্পাইডার নেটের মতো বিস্তীর্ণ এই কোচিং গুলো তাদের বাহারি রঙ্গের ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে প্রমান বহন করছে তাদের অবৈধ কোচিং বানিজ্য। কিন্ত শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ বলছেন তাদের নিকট কোন প্রমান নেই। অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, কোচিং সেন্টারের পরিচালকদের রয়েছে সিন্ডিকেট বাহিনী। অর্থের বিনিময়ে ওই সকল কোচিং সেন্টারের মদদ করে তারা। গনমাধ্যম কর্মীরা কোচিং বিষয়ে তথ্য নিতে ফোন করলে শুনতে হয় নানা রকম অকথ্য ভাষায় মন্দ শব্দসহ বিবিধ উক্তি।

চারঘাট উপজেলা প্রাথমিক ও শিক্ষা অফিসার, বাঘা শিক্ষা অফিসার, পুঠিয়া, দূর্গাপুরসহ একাধিক শিক্ষা অফিসার বলেন, তাদের নিকট সঠিক কোন কোচিং এর তথ্য নেই। যার কারনে কোচিং বানিজ্যের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না। একই ভাবে উত্তর দিয়েছেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
তবে স্থানীয়রা বলছেন অন্য কথা, শিক্ষা অফিস সব কিছু জেনে বুঝে করছে। একটি উপজেলায় প্রত্যেক শিক্ষকদের ডাটা তাদের নিকট আছে। শিক্ষা অফিসার একটি সুবিধা নিয়ে তাদেরকে সুবিধা দিচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগীয় কর্যালয় সরকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তথ্যমতে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগে মোট ৮হাজার ৬শত ৫৪৩টি স: প্রা: ব্যিালয় রয়েছে। যার মধ্যে রাজশাহীতে ১টি পিটিআই স্কুল, ২টি শিশু কল্যান ট্রাষ্ট এর স্কুল এবং ১০৫৭ টি স: প্রা: বিদ্যালয় রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিনিট স্কুল শিক্ষক নিজ থেকে সংশোধন না হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব নই। তবে সুনিদৃষ্ট তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অবশ্যই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই অঞ্চলে সরকারী মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে ৮৭টি, সরকারী কলেজ আছে ৮৯টি, এমপিও কলেজ আছে ৫৮০টি, নন-এমপিও কলেজ ১৯৩টি, স্কুল এন্ড কলেজ ২০৩টি, জুনিয়র স্কুল আছে ২৪৮টি এবং মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে ২৪৯৫টি।

রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক শিক্ষা পরিচালক প্রফেসর হুমায়ূন কবির নাগরিক টিভিকে জানান, গত ২০১২ সালের নিতীমালা অনুযায়ী শিক্ষকরা কোচিং বানিজ্য বা অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না। উপজেলা পর্যায়ে সঠিক তথ্য নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন:উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন