বরগুনায় ধর্ষণের অভিযোগে ১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

বরগুনায় ধর্ষণের অভিযোগে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোঃ ওসমান গনি (জেলা ও দায়রা জজ)। রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের শুনানী শেষে এ আদেশ দেন তিনি।

আদেশে বলা হয়েছে, আসামী বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচকী গ্রামের আঃ কাদেরের পুত্র মোঃ মাহবুব কারিকর এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে উক্ত ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হলো। অর্থদন্ডের ১০ হাজার টাকা ভিকটিম মোসাঃ রিনা প্রাপ্ত হবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত; ২০১৪ সালের ২৩ জুন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মৃত মমিন উদ্দিনের ছেলে মোঃ খবির গাজী বাদী হয়ে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, একই সালের একই মাসের ০৩ তারিখ তার মেয়ে মোসাঃ রিনা বেগমকে একই এলাকার আঃ কাদেরের পুত্র মোঃ মাহবুব কারিকর বিদেশে ও চাকরীর কথা বলে জামাতার বাড়ি থেকে জামাতাসহ চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। চট্টগ্রামে গিয়ে আসামী বাদীর জামাতাকে একটি হোটেলের পানি পান করতে গেলে কৌশলে ভিকটিমকে নিয়ে আসামী পালিয়ে যায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। পরে তার জামাতা বাড়িতে এসে অনেক খোজাখুজি করে আসামীর বিরুদ্ধে ২০ দিন পর আদালতে মামলাটি করেন।

দীর্ঘ ১২ বছর পর সাক্ষী ও শুনানী শেষে রবিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) মামলায় আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন বিচারক।

মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি ও নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপু জানান, আদালতের কাছ থেকে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। রাষ্ট্র পক্ষ মোট ৯ জন সাক্ষীকে উপস্থিত করে বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়েছে। আজকে মামলাটির আদেশ পাওয়ায় আমি বিজ্ঞ বিচারক মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাই। এতে করে মানুষ ভবিষ্যতেও ন্যায় বিচার পাবে বলে আশা করছি। আসামীকে যুক্তিতর্ক শুনানীর দিন বিজ্ঞ আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আসামীর সম্মুখে বিজ্ঞ আদালত এ রায় পড়ে শুনান। আসামী বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতের সাজামুলে জেল হাজতে আছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত থেকে ভারতীয় মাদক ও মালামাল উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন