মানিকগঞ্জে নদীর পাড়ে মাথাবিহীন অজ্ঞাত কিশোরীর লাশ উদ্ধার

​মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে নদীর পাড় থেকে মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহটির আনুমানিক বয়স ১৭ বছর বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। নৃশংস ও মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৃষ্ণপুর ইউনিয়নসহ পুরো মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় গভীর শোক, চাঞ্চল্য এবং আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, আজ রোববার দুপুরের দিকে, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীর পাড়ে একটি নিথর দেহ ভেসে আসতে দেখেন এলাকার কয়েকজন। জোয়ার কিংবা স্রোতের তোড়ে কূলের কাছাকাছি চলে আসা দেহটির কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান যে, মরদেহটি সম্পূর্ণ মাথাবিহীন। কিশোরীর শরীরে মাথা না থাকায় সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং একনজর দেখার জন্য ঘটনাস্থলে নদীর তীরে উৎসুক ও আতঙ্কিত মানুষের ঢল নামে। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা আর দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গেই মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

​ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এভাবে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর মাথাবিহীন মরদেহ ভেসে আসার দৃশ্য অত্যন্ত বিভৎস ও হৃদয়বিদারক। অপরাধীরা পরিচয় গোপন করতেই যে মাথা কেটে আলাদা করে দেহটি নদীতে ফেলে দিয়েছে—এমনটাই ধারণা করছেন তারা। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
​
সংবাদ পাওয়ার পরপরই মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা নদীর পাড় থেকে মাথা থেকে আলাদা করা অজ্ঞাত ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরবর্তীতে পুলিশি প্রহরায় মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

​মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরনে থাকা পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি কিশোরীর দেহ। তবে মরদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ অর্থাৎ মাথা অনুপস্থিত থাকায় এবং সাথে পরিচয় নিশ্চিত করার মতো কোনো আলামত না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় বা ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। কিশোরীটি ঠিক কীভাবে মারা গেছে, তাকে অন্য কোথাও হত্যা করে আলামত ধ্বংসের উদ্দেশ্যে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে নাকি নদীর আশেপাশেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিরাজগঞ্জে নিখোঁজের দুইদিন পর অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন