যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নিট সম্পত্তি একদিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে। ফলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার দৌড়ে একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের এই উদ্যোক্তা।
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় এ তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় মাস্কের সম্পদে বড় ধরনের এই উল্লম্ফন হয়েছে।
ফোর্বসের হিসাবে, ওই দিন ইডিটি সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। আগের দিনের তুলনায় তার সম্পদ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এর ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।
মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি সফল উৎক্ষেপণের পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছায়।
স্পেসএক্স দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশ প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। কোম্পানিটির সফল উৎক্ষেপণ ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায় শেয়ারের মূল্যেও তার প্রভাব পড়ে। আর স্পেসএক্সে মাস্কের বড় মালিকানা থাকায় কোম্পানিটির মূল্য বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর।
বিশেষ করে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানো, বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ এবং মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণে স্পেসএক্সের অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে সামান্য পরিবর্তনও মাস্কের মোট সম্পদের হিসাবে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
স্পেসএক্সের পাশাপাশি টেসলার শেয়ারের দামও বেড়েছে। শুক্রবার টেসলার শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়ায়। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহের পরিসংখ্যানও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা মোট ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাওয়া এই সরবরাহের পরিসংখ্যান কোম্পানিটির ব্যবসা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
টেসলার গাড়ি সরবরাহের শক্তিশালী তথ্য প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে। এর ফলে শেয়ারের দামও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। টেসলায় মাস্কের বড় মালিকানা থাকায় শেয়ারের এই মূল্যবৃদ্ধিও তার নিট সম্পদ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মাস্ক। তার পরের অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী বেজোসের তুলনায় মাস্কের সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি। একই সঙ্গে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা থেকে মাস্ক এখন মাত্র প্রায় ২০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার দূরে রয়েছেন।
তবে শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে মাস্কের নিট সম্পদের হিসাবও দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম কমে গেলে তার সম্পদের পরিমাণও একইভাবে কমতে পারে।
মাস্ক এর আগেও একবার ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে অল্প সময়ের জন্য তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দামের ওঠানামার কারণে তার সম্পদের পরিমাণেও বড় পরিবর্তন দেখা যায়।
বর্তমানে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পর আবারও ট্রিলিয়ন ডলারের সীমার সামনে দাঁড়িয়েছেন মাস্ক। তার সম্পদের বড় একটি অংশই বিভিন্ন কোম্পানিতে থাকা শেয়ার ও মালিকানার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য বাড়লে তার সম্পদ দ্রুত বাড়ে, আবার বাজারে দরপতন হলে কমেও যায়।
মাস্কের সম্পদ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করলে প্রযুক্তি ও ব্যবসা জগতে সেটি হবে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর আগে বিশ্বের কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিমাণ সম্পদের মালিক ছিলেন না।
তবে শুক্রবারের এই উত্থান মাস্কের জন্য শুধু সম্পদের নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছানো নয়; বরং স্পেসএক্স ও টেসলার ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থারও প্রতিফলন। সামনে এই দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের গতিপথই অনেকাংশে নির্ধারণ করবে মাস্ক কত দ্রুত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেন।
পড়ুন:৬টি পদে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
ইমি/


