ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিল

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তবে আদালত তিনটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর করার আদেশ দেন। ফলে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে ইনুকে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই সাজা অপর্যাপ্ত। এ কারণেই সোমবার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন করে আপিল করা হয়েছে। আবেদনে তুলে ধরা যুক্তির ভিত্তিতে ইনুর সাজা বাড়বে বলে আশা করছে প্রসিকিউশন।

যেভাবে এগিয়েছে মামলা

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। পরে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গত বছরের ২ নভেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৩০ নভেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ হয় ১ ডিসেম্বর। মামলায় প্রসিকিউশন ১০ জন সাক্ষী হাজির করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ হাজির করেছিল দুজন সাফাই সাক্ষী।

ইনুর বিরুদ্ধে আট অভিযোগ

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসানুল হক ইনু ওই সভায় উপস্থিত থেকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।

তৃতীয় অভিযোগে রয়েছে, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা তৈরি এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

পঞ্চম অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৪–দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি অংশ নেন।

সপ্তম অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অষ্টম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা দেন ইনু। একই অভিযোগে সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

পড়ুন : শিক্ষার আলো ছড়ানোর মানুষগুলোর ভিন্ন বাস্তবতা


সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন