চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসেরথ এবং জার্মানির পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে (বাংলাদেশ সময়) সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেগম্যান ও নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরা দেখতে পান, এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিনের জিন প্রবেশ করান ডাইসেরথ। এরপর ওই কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়বিক সংকেত (নার্ভ সিগন্যাল) চালু বা ট্রিগার করতে সক্ষম হন। পরে তিনি দেখান, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও স্নায়ুকোষের জন্য আলো-নিয়ন্ত্রিত এই সুইচটি কার্যকর।
আলো দিয়ে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতিটি এখন ‘অপটোজেনেটিক্স’ নামে পরিচিত।
এখন পর্যন্ত ২৩২ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসায় নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পেয়েছেন কানাডার ব্রেডরিক ব্যান্টিং। ৮৭ বছর বয়সে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোস।
তিন বিজ্ঞানীর পরিচিতি–
কার্ল ডাইসেরথ
কার্ল ডাইসেরথ (Karl Deisseroth) যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও জৈব প্রকৌশলী। ২০২৬ সালে শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য জার্মানির পেটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেলের সঙ্গে যৌথভাবে এ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
ডাইসেরথের গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে অপটোজেনেটিকস স্নায়ুবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
পেটার হেগেমান
পেটার হেগেমান (Peter Hegemann) জার্মানির প্রখ্যাত জীবপদার্থবিজ্ঞানী এবং ২০২৬ সালের শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী। আলো ব্যবহার করে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি অপটোজেনেটিকসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত তিনি।
জার্মানির বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনবিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষামূলক জীবপদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হেগেমান। একই সঙ্গে তিনি স্নায়ুবিজ্ঞানের হার্টি জ্যেষ্ঠ গবেষণা চেয়ারের অধ্যাপক।
গেয়র্গ নাগেল
গেয়র্গ নাগেল (Georg Nagel) জার্মানির প্রখ্যাত জীবপদার্থবিজ্ঞানী। তিনি জার্মানির ভুরৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুতড়িৎক্রিয়াবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত তিনি।
২০২৬ সালে শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে পেটার হেগেমান ও কার্ল ডাইসেরথের সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কৃত হন গেয়র্গ নাগেল। তাঁদের গবেষণার ফলে আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের নতুন পথ উন্মোচিত হয়েছে।
পড়ুন: ১০১ গুণী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান
আর/


