চরফ্যাশনে জমি নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর আইচা বাজারে একটি ভিটার মালিকানা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত তথ্যের প্রতিবাদে সংবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ রানা।

মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ফেসবুকে প্রকাশিত তথ্যকে ভিত্তিহীন, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ রানা বলেন, উত্তর আইচা বাজারের ১২৬৯ নম্বর দাগ ও ২০২৬-১০০২২৩ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ভিটার মূল মালিক তিনি। তার বাবা আব্দুল জলিল ব্যাপারী ১৯৯৪ সালে ওই সম্পত্তি হালিমা খাতুনের কাছে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করেন এবং বর্তমানে বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুদ রানা বলেন, তার স্বত্বাধিকার ও বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অন্য কেউ ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছেন, তা তার বোধগম্য নয়।

সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কাগজপত্র যাচাই করে যদি প্রমাণিত হয় যে সম্পত্তিটি তার নয়, তাহলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের দাবি ছেড়ে দেবেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ‘সিটিএম’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তাকে জড়িয়ে ওই জমি অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা করছেন—এমন তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তার দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য এবং এর মাধ্যমে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ওই প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

তবে একই জমির মালিকানা দাবি করে সাবেক চেয়ারম্যান হাজি আব্দুর রব বলেন, সম্পত্তিটির প্রকৃত মালিক তিনিই। তার দাবি, কোনোভাবেই অন্য কেউ ওই সম্পত্তির মালিক হতে পারেন না।

এদিকে জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিরসনে উভয় পক্ষের দায়িত্ব পাওয়া চরফ্যাশন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হযরত আলী হিরন বলেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষই তার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। সে অনুযায়ী কাগজপত্র পর্যালোচনার সময় মাসুদ রানা জমির দলিলপত্র উপস্থাপন করতে সক্ষম হলেও সাবেক চেয়ারম্যান হাজি আব্দুর রব কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী জিয়া উদ্দিন বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান হাজি আব্দুর রব তাকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব প্রদান করেন, যাতে করে তিনি জমিটি পেতে পারেন যদি তার বিনিময়ে কোন মূল্য পরিশোধ করতে হয় তাহলে তিনি রাজি আছেন।

তবে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ রানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : টাঙ্গাইলে বৃদ্ধাকে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন