সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন বর্ষীয়ান রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্ত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় কয়েক দিন ধরে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বিভা সেনগুপ্ত। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী শ্রাবণী সেন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রবীন্দ্রসংগীত ছিল বিভা সেনগুপ্তের জীবনের অন্যতম সাধনার ক্ষেত্র। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তার কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের পরিবেশনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। সেই সুবাদে শ্রোতাদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন তিনি।
শ্রাবণী সেন জানিয়েছেন, বিভা সেনগুপ্ত তাদের পরিবারকে অত্যন্ত আপন করে নিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার ছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক। শ্রাবণীর মা ও বোনসহ পরিবারের সবার প্রতি তার ছিল ভালোবাসা। মাঝেমধ্যেই তাদের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন তিনি। ছোটদের প্রতিও ছিল তার বিশেষ টান। তাদের স্নেহ করার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে উৎসাহও দিতেন।
শ্রাবণী সেনের ভাষ্যমতে, বিভা সেনগুপ্ত শুধু একজন বর্ষীয়ান গায়িকাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল একজন মানুষ। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ছোটরা কোনো কাজ করলে তিনি খুশি হতেন এবং উৎসাহ দিতেন। কারও কাজকেই কখনো ছোট করে দেখতেন না।
জন্মসূত্রে ত্রিপুরার বাসিন্দা বিভা সেনগুপ্ত ১৯৫৯ সালে কলকাতায় আসেন। সেখানে দীর্ঘদিন মায়া সেনের কাছে রবীন্দ্রসংগীতের তালিম নেন তিনি। পরে মায়া সেনই তাকে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের কাছে নিয়ে যান।
বিভা সেনগুপ্তের গান দেবব্রত বিশ্বাসের পছন্দ হয়। পরবর্তীতে তার কাছ থেকেও সংগীতের শিক্ষা নেন বিভা সেনগুপ্ত। দীর্ঘ সংগীতসাধনার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রসংগীতের জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন এই শিল্পী।
পড়ুন : ১৫ বছর পর শাহরুখের সঙ্গে পর্দায় ফিরছেন কারিনা
সা/


