অস্থির বিশ্বে শান্তির নোবেল, উঠবে কার হাতে?

বিশ্বব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের ঢেউ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটি। একই সঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে যারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন পথ, উদ্যোগ ও প্রতিষ্ঠান তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের কর্মকাণ্ডও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে সোমবার এমন মন্তব্য করেছেন নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন। আগামী শুক্রবার এ বছরের শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করবে পাঁচ সদস্যের নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি।

কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে হার্পভিকেন সম্ভাব্য নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রার্থীদের নথি প্রস্তুত করেন এবং তাদের নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। তবে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচনের সময় ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই তার।

সোমবার এক সাক্ষাৎকারে নোবেল কমিটির কাজ ও বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হার্পভিকেন বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলোর দিকে গভীর নজর রাখছে কমিটি।

‘‘আমরা কী পেছনে ফেলে যাচ্ছি তা আমরা জানি। তবে এর কতটুকু টিকে থাকবে এবং কী রূপে থাকবে তা আমাদের জানা নেই; আর সামনে কী আসছে, সে সম্পর্কে তো আমরা নিশ্চিতভাবেই জানি না।”

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন প্রবণতা নোবেল শান্তি পুরস্কারের দীর্ঘদিনের মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, “কমিটি তার আলোচনায় নিশ্চিতভাবেই এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। কারণ আমরা আন্তর্জাতিকভাবে যেসব প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি, তার কিছু কিছু এমন বিষয়কে হুমকির মুখে ফেলছে; যা নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পুরো ইতিহাসজুড়ে লালন করে এসেছে।”

১৮৯৫ সালে সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের উইলের মাধ্যমে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সূচনা হয়। তার উইল অনুযায়ী, জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত বা হ্রাস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্রতিষ্ঠান, উদ্যোগ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন পদ্ধতি তৈরি করা ব্যক্তিদেরও কোনো এক পর্যায়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হার্পভিকেন বলেন, “অবশ্যই, এটা স্পষ্ট আমরা এখন যে পরিবর্তনশীল সময় পার করছি, তার মধ্যে যারা নতুন প্রতিষ্ঠান, নতুন উদ্যোগ এবং কাজের নতুন পথ তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছেন, তা আলফ্রেড নোবেল তার উইলে যেসব মূল উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে গেছেন তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কারণ, শেষ পর্যন্ত এটিই তো কমিটির কাজের মূল মাপকাঠি। ফলে এটি অবশ্যই এমন একটি বিষয় হবে; যা কমিটি খোঁজার চেষ্টা করবে।”

তবে বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রাসঙ্গিকতা কমিয়ে দিয়েছে—এমনটা মনে করেন না হার্পভিকেন। বরং তার উদ্বেগের জায়গা পুরস্কার নয়, বিশ্ব কোন দিকে এগোচ্ছে সেটি।

বিশ্বজুড়ে যে তোলপাড় চলছে, তার অর্থ এই নয় যে প্রার্থীর অভাব রয়েছে কিংবা শান্তি পুরস্কার তার প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে জানিয়ে হার্পভিকেন বলেন, “পুরস্কার নিয়ে আমি চিন্তিত নই। তবে বিশ্ব কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে আমি চিন্তিত।”

এদিকে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা শুরু হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার দিয়ে। মস্তিষ্ক কীভাবে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম চালু বা বন্ধ করে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী।

তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ল ডেইসেরোথ, জার্মানির হামবোল্ট ইউনিভার্সিটির পিটার হেগেমান এবং জার্মানির উয়ুর্সবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্জ নাগেল। সোমবার (৫ অক্টোবর) স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে গবেষণার জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। নোবেল কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এসব পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

চিকিৎসা কমিটির সেক্রেটারি থমাস পার্লম্যান জানান, সোমবার ফোনে তিনি তিন বিজয়ীর সঙ্গেই যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন।

স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ বছরের নোবেল সপ্তাহ। চলতি বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা বা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম নিয়ে গবেষণা করা তিন বিজ্ঞানী।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পর এবার পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস লুই হ্যালজেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোম থেকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স তার নাম ঘোষণা করে।

মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে আসা অত্যন্ত শক্তিশালী নিউট্রিনো কণা শনাক্ত করা এবং এসব কণার সন্ধানে আইসকিউব নামে বিশাল যন্ত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হ্যালজেনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিজ্ঞানী—জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ. ডেভোরেট ও জন এম. মার্টিনিস।

এদিকে নোবেল পুরস্কারের পরবর্তী ঘোষণা হিসেবে আগামী ৭ অক্টোবর বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

পড়ুন: আসিয়ানের খাদ্যবাজারে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা, বাধা শুল্ক ও সনদ

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন