চাঁদপুরের আলোচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খান হত্যাএ মামলায় শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বাবা-ছেলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান নিহত হন। এ ঘটনায় পরবর্তীতে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ৬ আগস্ট ২০২৪ দুপুরের ঘটনার উল্লেখ করে মো. আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারনামীয় আসামিদের পাশাপাশি ১০০ থেকে ১২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। নথিতে মো. মইদুল (বিএসসি/প্রতিনিধি)সহ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। মামলার জিআর নম্বর ৩২০/২০২৪ বলে উল্লেখ থাকলেও নথির লেখা অস্পষ্ট হওয়ায় বিষয়টি যাচাইসাপেক্ষ।
এদিকে আদালতের নির্দেশে বুধবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে প্রথমে সেলিম খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। পরে তাঁর ছেলে শান্ত খানের মরদেহও উত্তোলন করা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ‘শাপলা মিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তাঁর ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন।
সেলিম খানের বিরুদ্ধে পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকিসহ একাধিক মামলা থাকার কথাও জানা যায়।
মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত মরদেহ দুটি উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
পড়ুন : আসিয়ানের খাদ্যবাজারে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা, বাধা শুল্ক ও সনদ
সা/


