দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান (বড়মাঠ) সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় তা খেলাধুলা ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ঐতিহাসিক বড়মাঠ রক্ষা কমিটি।
৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রেরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন জনপদ দিনাজপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান স্থানীয়ভাবে বড়মাঠ নামে পরিচিত। এই মাঠটি দিনাজপুরের মানুষের হাসি-কান্না, উৎসব, খেলাধুলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘদিনের সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দিনাজপুরবাসীর জীবনের সঙ্গে এই মাঠটি গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিনাজপুরের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও আবেগময়। তার মাতামহ মরহুম ইস্কান্দার মজুমদার ও মাতামহী মরহুমা তৈয়বা মজুমদারের স্মৃতিবিজড়িত দিনাজপুর তার পারিবারিক শিকড়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্মারকলিপি অনুযায়ী, সিএস জরিপে মৌজা প্রাণনাথপুরে ৭৪.২১ একর জমি ভারত সম্রাটের পক্ষে মিলিটারি ডিপার্টমেন্টের নামে রক্ষিত খতিয়ান হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে যুদ্ধকালীন প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন স্থানে ভূমি সংরক্ষণ করা হলেও উক্ত ভূমিতে কোনো সামরিক স্থাপনা, ব্যারাক বা সুনির্দিষ্ট কাঠামোর উল্লেখ পাওয়া যায় না। ১৯৪৭ সাল থেকে এই মাঠে জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
১৯৮৮ সালের জরিপ প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় মাঠ, শিশু পার্ক, রাজা প্রাসাদ, মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মাঠসহ বিভিন্ন স্থাপনা পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়, কোথাও সামরিক স্থাপনার উল্লেখ নেই। ১৯৮৯ সালের ১৪ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিদ্ধান্ত দেন, বড়মাঠে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৮.৫০ একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে হস্তান্তর করা হবে এবং জমির নিয়ন্ত্রণ বেসামরিক প্রশাসনের হাতে থাকা উচিত।
পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ১৪-১৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরের বড়মাঠকে অন্য কোনোভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ না নিয়ে বর্তমান অবস্থায় রাখার প্রস্তাব করেন এবং বড়মাঠের ভূমি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য যেমন আছে তেমন রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
দাবিসমূহ:
ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানকে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখা ও সংরক্ষণ করতে হবে।
১৯৮৯ সালের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করে জমি বেসামরিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
২০০৩ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত – “বড়মাঠের জমি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য যেমন আছে তেমন রাখা হবে” – অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
বড়মাঠ থেকে সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প/অস্থায়ী সামরিক ব্যবহার প্রত্যাহার করে মাঠটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
স্মারকলিপিতে কমিটির আহ্বায়ক আক্কাস সামাদ ও সদস্য সচিব রেহাতুল ইসলাম খোকা স্বাক্ষর করেন। তারা বলেন, ঐতিহাসিক বড়মাঠ রক্ষা আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দলের স্বার্থরক্ষার আন্দোলন নয়, এটি দিনাজপুরবাসীর অধিকার, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জনসম্পদ রক্ষার আন্দোলন।
পড়ুন:গাইবান্ধার ফুলছড়ি পিআইও দপ্তরের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইমি/


