মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলা ও প্রতিটি জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) আদলে ক্রীড়া একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফিরদৌস মুরাদ।
তিনি বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; বরং এটিকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এর মাধ্যমে তরুণেরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকার ধামরাইয়ের দেপাশাই নয়াপাড়া মাদকবিরোধী প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর মেগা ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেপাশাই নয়াপাড়া খেলার মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ফাইনালে মুখোমুখি হয় রিফাত লায়ন্স ও জাকারিয়া একাদশ।
ইয়াসিন ফিরদৌস মুরাদ বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মাঠগুলো খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট, সাঁতার, হা-ডু-ডু ও ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে উঠবে।
দেশের প্রতিটি জেলায় বিকেএসপির আদলে ক্রীড়া একাডেমি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব একাডেমির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথও প্রসারিত হবে।
বক্তব্যে তিনি জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি খেলাধুলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসডিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক। সভাপতিত্ব করেন ভালুম এ. আর. খান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. এ. জলিল।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন এবং ধামরাই উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন সাদি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. আরিফ হোসেন ও মো. রিফাত হোসাইন। আয়োজকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেপাশাই নয়াপাড়া একতা সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম এবং ক্রীড়া সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ।
আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ইয়াসিন ফিরদৌস মুরাদ টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান এসডিআইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
পড়ুন : গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরি, চলছে তদন্ত


