দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০ জন। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫৮ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫ হাজার ৮২৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৬৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ভর্তি হয়েছেন ৭১৪ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের দুজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
দেশজুড়ে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেই ঢাকার ধামরাই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বাড়লেও মশক নিধনে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো কিংবা নিয়মিত কার্যকর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।
দিনের তুলনায় সন্ধ্যা ও রাতে মশার উপদ্রব আরও বেড়ে যায়। এতে শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সী মানুষ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগের পাশাপাশি ক্ষোভ বাড়ছে পৌরবাসীর মধ্যে।
পৌরবাসী মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পৌরসভার কর দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু পৌরসভা থেকে কোনো রকম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। এলাকায় মশার ব্যাপক উপদ্রব। প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে আমাদের। অথচ মশা নিধনে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানোর কোনো উদ্যোগই দেখছি না।’
স্থানীয়দের প্রশ্ন, নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত পৌরকর আদায় করা হলেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মশক নিধনের মতো জরুরি কার্যক্রম কেন দৃশ্যমান নয়? তাঁদের দাবি, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং যেখানে-সেখানে জমে থাকা পানি অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে ধামরাই উপজেলায় চলতি বছরের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, কতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে উপজেলা-ভিত্তিক হালনাগাদ নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। এ কারণে জাতীয় ও বিভাগীয় পরিসংখ্যানের সঙ্গে ধামরাইয়ের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এক করে দেখার সুযোগ নেই।
বর্তমানে ধামরাই পৌরসভার পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন। ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটানো এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, প্রয়োজন নিয়মিত মশক নিধন ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। তাই পরিস্থিতি আরও অবনতির আগেই ধামরাই পৌরসভার প্রতিটি এলাকায় কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
পড়ুন : কসবায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ


