মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চল লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ বছরের শিশু ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে উমামের বিরুদ্ধে। ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা মীমাংসা ও ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মেম্বার সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ইমাম উচমান মুন্সির বাড়ি খরিয়া হালুয়াঘাটা গ্রামে বলে জানান শিশুটির মা। তিনি চার আনি হালুয়াঘাটা মসজিদে ইমামতি করতেন বলে জানান স্থানীয়রা। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ইমামের বাবার নাম পর্যন্ত কেউ জানে না বলেও জানান। ইমামের বাবার নাম জানতে চাইলে অনকেই এড়িয়ে যান।
শিশুটির মা জানান, আমার স্বামী একজন কৃষক। গত মঙ্গলবার (০৬/১০/২০২৬ ইং) সন্ধার আগে হালুয়াঘাটা মসজিদে পাটি বিছানোর কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যায় ইমাম সাহেব। শিশুটি মসজিদের ভেতর ঢুকতেই দরজা বন্ধ করে তার মেয়ের উপর অমানবিক নির্যাতন করে। আমার মেয়ে কান্নাকাটি করতে করতে সব বলার পর স্থানীয় বেশ কয়েকজনকে জানালে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে বেশ কয়েকদিন ঘুরেছি। আমি গরীব মানুষ, এরই মধ্যে অনেক জায়গায় গিয়েছি। কেউ কোন সহযোগিতা করেনি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
শিশুটির বাবা কৃষক জানান, আমার মেয়ের সাথে ইমাম সাহেব এমনটি করেছে। আমি এর বিচার চাই। আমি গরিব মানুষ, আমি এখন কি করবো জানিনা।
স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা শুনে আমার খুব খারাপ লাগছে। এর আগেও বেশ কয়েকজন শিশুর শরীরে হাত দেয়ার কথা বাচ্চাদের মুখে শুনেছি, আমার ছোট মেয়ের সাথেও শরীরে হাত দেয়ার মত কথাও শুনেছি। বেশ কয়েকবার এমন অভিযোগ ছিলো এই ইমামের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ বসে মিমাংসা এবং ধামাচাপা দেয়ার জন্য মেম্বর চেষ্টা করছেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। অপরাধকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি আমি চাই।
লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য আলাল জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, আমি এলাকায় ছিলাম না।
অথচ প্রতিবেদকের কাছে মীমাংসার জন্য আলাল মেম্বার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহিন মিয়া জানান, এই ঘটনার পর ইমাম সাহেব পলাতক রয়েছে। অভিযুক্ত না হলে তিনি পালাবেন কেন? ঘটনা একটা অবশ্যই আছে। মেম্বার সবকিছু জেনেও না জানার ভান করছে বলে মনে হয়। অভিযুক্তের বাবা-মা ভয় পাচ্ছে কেন, সেটাই আমরা বুঝতেছি না। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি আমি চাই।
হরিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম বলেন, উক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পড়ুন : পাংশায় আমবাগান থেকে অবিস্ফোরিত ৪২টি ককটেল উদ্ধার


