শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের ম্যাচে বড় সংগ্রহ গড়েও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। ওপেনার রনি তালুকদারের দুর্দান্ত ৯৬ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৮ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। তবে ক্রিস গেইল ও চ্যাডউইক ওয়ালটনের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে ৫ বল ও ৫ উইকেটে হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্য টপকে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নস। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ক্যারিবীয়রা।
ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ১২ বলে ৩ রান করে ইমরুল কায়েস সাজঘরে ফিরে গেলে দল চাপে পড়ে। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে রানের গতি সচল রাখেন রনি তালুকদার। দ্বিতীয় উইকেটে ফজলে মাহমুদের সাথে ৮৯ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ওঠে। ২২ বলে ৩৬ রান করে ফজলে আউট হলেও রনির ব্যাট থেকে আক্রমণাত্মক শট অব্যাহত থাকে। এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সাথে ২৮ বলে ৫৫ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন তিনি।
মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও ৫৬ বলে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৯৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন রনি তালুকদার। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ ২১ বলে ৪৩ রানের কার্যকরী ইনিংস উপহার দেন। ইনিংসের শেষদিকে জিয়াউর রহমানের অপরাজিত ১৩ রানের সুবাদে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ২১৮ রানের পাহাড়সম পুঁজি পায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বোলিংয়ে রায়াদ এমরিট ২টি এবং ডোয়াইন ব্রাভো ও রেমন রেইফার একটি করে উইকেট লাভ করেন।
জবাবে রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই টাইগার বোলারদের ওপর চড়াও হন ক্রিস গেইল ও লেন্ডল সিমন্স। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ২৮ বলেই তারা যোগ করেন ৬৭ রান। সিমন্স ১১ বলে ২০ রান করে ফিরলেও ক্যারিবীয় অধিনায়ক গেইল তার চিরচেনা ছন্দে বিধ্বংসী ব্যাটিং চালিয়ে যান। মাত্র ২৫ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৬ রান করেন তিনি। যখন তিনি আউট হন, তখন দলের রান ৮.১ ওভারে ১০৫।
গেইলের বিদায়ের পর দলের জয়ের পথ সহজ করেন চ্যাডউইক ওয়ালটন। একপ্রান্ত আগলে রেখে তিনি ৪৩ বলে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৯০ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন। এছাড়া রেমন রেইফার ১৫ বলে ২০ এবং জারমেইন ব্ল্যাকউড ১১ বলে ১৪ রান করে দলকে জয়ের বন্দরের কাছাকাছি নিয়ে যান। শেষপর্যন্ত ডোয়াইন ব্রাভোর অপরাজিত ৫ রানের সুবাদে ১৯.১ ওভারেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নস। বাংলাদেশের পক্ষে কামরুল ইসলাম ৩টি এবং এনামুল হক জুনিয়র ২টি উইকেট শিকার করেন।
পড়ুন : ‘অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন’
সা/


