রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন আবুল কাশেম। চাইলে বেছে নিতে পারতেন প্রচলিত কোনো পেশা। তবে চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষি ও পশুপালনকে নিজের কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। প্রায় তিন বছর আগে মাত্র চারটি গাড়ল নিয়ে শুরু করেন খামার। সেই উদ্যোগ এখন ছোট-বড় মিলিয়ে ২১টি গাড়লে পৌঁছেছে। এবার তাঁর লক্ষ্য পরিকল্পিত প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দুম্বা উৎপাদন বাড়ানো এবং গড়ে তোলা একটি সম্ভাবনাময় খামার।
আবুল কাশেমের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শেষ সীমানায়, ঢাকার ধামরাই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর দুই মাস আগে চারটি গাড়ল দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে একটি ছিল প্রজননক্ষম পুরুষ গাড়ল এবং তিনটি ছিল স্ত্রী গাড়ল। পরে পর্যায়ক্রমে খামারের পরিসর বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাঁর খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ২১টি গাড়ল রয়েছে।
খামার পরিচালনার পাশাপাশি দুম্বা ও গাড়লের প্রজনন নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনা, উপযুক্ত প্রজনন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে দুম্বার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানো। এ লক্ষ্যেই আগে দুম্বার একটি পাঠা ব্যবহার করলেও প্রজনন ব্যবস্থাপনার কথা বিবেচনা করে বর্তমানে গাড়লের একটি পাঠা রেখেছেন। ভবিষ্যতে আবার দুম্বার পাঠা আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
আবুল কাশেমের দাবি, দুম্বার মাধ্যমে প্রজননের ফলে তাঁর খামারের কয়েকটি বাচ্চার মধ্যে দুম্বার মতো শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পর্যায়ে খামারটিকে নিয়ে যেতে চান তিনি। তবে প্রজননের মাধ্যমে গাড়ল থেকে দুম্বায় রূপান্তরের বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনার বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে প্রাণীর প্রকৃত জাত, বংশগত বৈশিষ্ট্য ও প্রজনন ব্যবস্থাপনার ওপর।
শিক্ষিত হয়েও কৃষি ও পশুপালনে আগ্রহ
আবুল কাশেম জানান, তিনি সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেছেন। পরে আইন বিষয়েও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কিন্তু প্রচলিত পেশার চেয়ে কৃষি ও খামার পরিচালনার প্রতি তাঁর আগ্রহ বেশি। গাড়ল পালনের পাশাপাশি তাঁর পেঁপের চারা উৎপাদন, পেঁপের বাগান ও কলাবাগান রয়েছে। আগে গরুর খামারও পরিচালনা করতেন। তবে লোকসানের কারণে সেটি বন্ধ করে দিয়েছেন।
বর্তমানে নিজের উদ্যোগেই গাড়লের খামার পরিচালনা করছেন তিনি। এ কাজে সহযোগিতা করছে তাঁর ছেলে, যে বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। বাবা-ছেলে মিলে খামারের দেখাশোনা করেন।
শুরুর পথে বাধা, এখন বড় স্বপ্ন
খামার শুরুর সময় পরিবার ও আশপাশের মানুষের কাছ থেকে নিরুৎসাহিত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন আবুল কাশেম। তাঁর ভাষ্য, অনেকে তাঁকে গাড়ল পালনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বলেছিলেন। কেউ কেউ পশুপালনকে তুচ্ছ করে মন্তব্যও করেছিলেন। তবে সেসব কথায় কান না দিয়ে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে গেছেন তিনি।
এখন তাঁর স্বপ্ন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে খামারের পরিসর আরও বাড়ানো। বর্তমানে ২১টি গাড়ল নিয়ে কাজ করলেও ভবিষ্যতে শতাধিক দুম্বা পালনের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, উন্নত প্রজনন ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।
সরকারি সহায়তা চান উদ্যোক্তা
আবুল কাশেম বলেন, তাঁর পরিকল্পনাকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা পেলে খামারটি আরও বড় পরিসরে গড়ে তোলা সম্ভব বলে আশা করছেন তিনি।
শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত। গাড়ল, দুম্বা বা ছাগলের খামার কিংবা কৃষিকাজের মতো উৎপাদনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
আবুল কাশেমের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু নিজের খামার বড় করা নয়; বরং কৃষি ও পশুপালনকে শিক্ষিত তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা। যথাযথ প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগ পেলে তাঁর মতো উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পড়ুন : পুঠিয়ায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটেছে স্ত্রী, অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ


