কাশিমপুরে ‘হামকো’ নামে নকল ব্যাটারির পানি, ট্রাক জব্দ; আটক ৩

গাজীপুরের কাশিমপুরে ‘হামকো’ ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে ব্যাটারির পানি বাজারজাতের অভিযোগে পণ্যভর্তি একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—আহসান হাবীব বাবুল (৪০), সাদ্দাম হোসেন (৩২) শহিদুল ইসলাম (৩৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘@হামকো’ ব্র্যান্ডের নাম করে ব্যাটারির পানি বাজারজাতের বিষয়টি স্থানীয়রা আটক করে কাশিমপুর থানায় জানালে পরে পণ্যভর্তি একটি ট্রাক সহ তিনজনকে আটক করে কাশিমপুর থানা পুলিশ ।

পুলিশের জব্দ করা বোতলগুলোর গায়ে ও ক্যাপে খোদাই করে ‘HAMKO’ লেখা রয়েছে। তবে বোতলের মোড়ানো স্টিকারে লেখা রয়েছে ‘@HAMKO’। এ নিয়ে পণ্যটির বৈধতা ও ব্র্যান্ড ব্যবহারের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

হামকো কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘@HAMKO’ তাদের কোনো ব্র্যান্ড নয়। হামকোর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন অফিসার) সাইফুল ইসলাম বলেন, “@HAMKO আমাদের ব্র্যান্ড নয়। আমাদের ব্র্যান্ডের নাম শুধু HAMKO।”

তিনি বলেন, প্রকৃত ব্র্যান্ডের নামের সঙ্গে অন্য কোনো চিহ্ন বা শব্দ যুক্ত করে পণ্য বাজারজাত করা হলে সাধারণ ক্রেতারা বিভ্রান্ত হতে পারেন।

হামকো ব্র্যান্ডের এডমিন ম্যানেজার মিনহাজুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তাদের ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করে ব্যাটারির পানি বিক্রি করে আসছে। এ ধরনের অননুমোদিত পানি ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, কয়েকজন ব্যবহারকারীর অভিযোগ, তারা বোতলে হামকো ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো দেখে ব্যাটারির পানি কিনেছেন। পরবর্তীতে ওই পানি ব্যবহারের দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবহারকারী বলেন, “বোতলে হামকো কোম্পানির লোগো দেখে আমরা পানি কিনেছিলাম। এটি আসল না নকল, তা বুঝতে পারিনি। পরে কয়েকজনের ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার কথা জানতে পেরে সন্দেহ হয়।”

তবে ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার সঙ্গে জব্দ করা পণ্যের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে পণ্যের রাসায়নিক গুণাগুণ, উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও মান পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আটক আহসান হাবীব বাবুল গাজীপুর সদর থানার বাহাদুরপুর ,সাদ্দাম হোসেন লালমনিরহাট সদর থানার বালাটারি এবং শহিদুল ইসলাম নীলফামারীর জলঢাকা থানার বাবনচুর গ্রামের ছেলে।

তিনজনের বিরুদ্ধে নকল ব্যাটারির পানি বাজারজাতের অভিযোগ উঠলেও পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতের সঙ্গে ট্রাক ড্রাইভার সহ তাঁদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে, পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম ও লোগোর সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে পণ্য বাজারজাত করা হলে সাধারণ ক্রেতারা সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এতে ক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রকৃত ব্র্যান্ডের সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁদের দাবি, জব্দ করা পণ্যের মান ও বৈধতা পরীক্ষা, উৎপাদন ও সরবরাহের উৎস শনাক্ত এবং নকল পণ্য বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন, ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষা এবং অননুমোদিতভাবে ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে পণ্য বাজারজাতের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খালিদ জানান, ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন : পুঠিয়ায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটেছে স্ত্রী, অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন