রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। হামলার পর সাময়িকভাবে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শনিবারের এ হামলার বিষয়ে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন এবং বাংলাদেশের দুজন নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের একের পর এক হামলায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রিয়াদকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এসব হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও ব্যাহত হতে পারে।

এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে সৌদি যুদ্ধবিমান। হুতিদের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলায় শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাব দিতেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। সৌদি বাহিনী বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আল-বুখাইতি বলেন, হুতিরা এই হামলা চালিয়েছে, যাতে বিশ্ব বুঝতে পারে—ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো বা সেগুলোর ক্ষতি করা উচিত নয়। ইয়েমেনের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্য জায়গায় একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম কার্যকর হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হামলার বিষয়ে সৌদি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন। এ সময় বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ।

এ পরিস্থিতিতে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা এইমাত্র সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে জানতে পেরেছি।’

সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে ‘একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’। তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এর আগে গত বছর হুতিদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প দ্রুত বিজয়ের ঘোষণা দিলেও প্রথম মাসেই মার্কিন বাহিনী প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছিল।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভার বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। ওই হামলাগুলোতে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন।

এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে রিয়াদ বিমানবন্দরে আক্রমণ চালানো হয়। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কতজন আহত হয়েছেন, তা নির্ধারণে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর এলাকার অবকাঠামোর নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে।

এদিকে, হামলার পর যাত্রীদের সতর্ক করে ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শ জারি করেছে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সময়সূচি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া কিংবা নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা সৌদি নাগরিকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবারও রিয়াদের এই বিমানবন্দরে দুটি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন। দুই দিনের ব্যবধানে একই বিমানবন্দরে আবার হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের বিমান যোগাযোগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

পড়ুন : কে এই নেহা বোরা? মুক্তি দিতে বাধ্য হলো ভারত সরকার

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন