বাংলাদেশ নিয়ে আইপিইউর ভুল ধারণা কেটে গেছে: স্পিকার

বাংলাদেশ সম্পর্কে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ভুল ধারণা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১১ অক্টোবর) তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত ১৫৩তম আইপিইউ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে তিনি এ কথা জানান।

গত ৫ অক্টোবর স্পিকার আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি ভুটানের স্পিকার টেম্পা দর্জির কাছ থেকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

একই দিনে (৫ অক্টোবর) আইপিইউর ১৫৩তম অ্যাসেম্বলিতে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পক্ষ থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, এমপি। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সংসদীয় কূটনীতিতে অনন্য গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

স্পিকারের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু। এছাড়া সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলেন সরওয়ার জামাল নিজাম, এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এস কে আজিজুল বারী, হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সানসিলা জেবরিন এবং রোকেয়া বেগম।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধি দল এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সবাইকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

উল্লেখ্য, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপে ৩৭টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সংসদীয় অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইপিইউ সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য:

১৮৮৯ সালে ‘আন্তঃ-সংসদীয় সম্মেলন’ (Inter-Parliamentary Conference) হিসেবে যাত্রা শুরু করা আইপিইউ হলো বিশ্বজুড়ে জাতীয় সংসদগুলোর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। ফ্রান্সের রাষ্ট্রনায়ক ফ্রেডিরিক পাসি এবং যুক্তরাজ্যের উইলিয়াম র‍্যান্ডাল ক্রেমার এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাতে রাজনৈতিক বহুপাক্ষিক আলোচনার জন্য একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়। শুরুর দিকে এতে কেবল স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা যুক্ত হতে পারলেও, পরবর্তীতে স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর আইনসভাকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৩টি দেশের জাতীয় সংসদ এর সদস্য এবং ১৫টি আঞ্চলিক সংসদ সহযোগী সদস্য হিসেবে রয়েছে। যদিও সূচক অনুযায়ী এর কিছু সদস্য রাষ্ট্র পুরোপুরি গণতান্ত্রিক নয়।

আন্তর্জাতিক আইন ও সংস্থাগুলোর বিকাশে, বিশেষ করে স্থায়ী সালিশি আদালত, লীগ অব নেশনস এবং জাতিসংঘের ভিত্তি মজবুত করতে আইপিইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংস্থাটির প্রাথমিক কাজ ছিল নানা বিরোধের মধ্যস্থতা করা। তবে সময়ের সাথে সাথে এর মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা, আন্তঃসংসদীয় সংলাপ, রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার দিকে প্রসারিত হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আইপিইউ-এর স্থায়ী পর্যবেক্ষক মর্যাদা রয়েছে এবং এই সংস্থার সাথে যুক্ত আটজন ব্যক্তি এ পর্যন্ত নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

আইপিইউ-এর গঠন ও প্রধান অঙ্গসমূহ:

সংসদ: বছরে দুবার আয়োজিত এই সভায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মনোনীত প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্থায়ী কমিটিগুলো সংসদের প্রতিবেদন ও প্রস্তাবনার খসড়া তৈরিতে সহায়তা করে। এতে কোনো একক প্রতিনিধি ১০টির বেশি ভোট দিতে পারেন না।

পরিচালনা পরিষদ: এটি সাধারণত বছরে দুবার বসে এবং প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র থেকে ৩ জন করে প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হয়। পরিচালন পরিষদের মেয়াদ এক অধিবেশন থেকে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত। পরিষদের সদস্যরা তিন বছরের জন্য সভাপতি নির্বাচন করেন, পাশাপাশি তারা কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ইউনিয়নের মহাসচিব নিয়োগ দেন।

কার্যনির্বাহী কমিটি: এটি সংস্থার মূল প্রশাসনিক অঙ্গ। আইপিইউ সভাপতি, বিভিন্ন সংসদের নির্বাচিত ১৫ জন সদস্য এবং নারী সংসদ সদস্যদের সভার সমন্বয় কমিটির সভাপতিকে নিয়ে এই কমিটি গঠিত। শুধু সেসব দেশের সংসদ সদস্যরা এখানে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য, যেখানে নারীদের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার রয়েছে। বর্তমানে তানজানিয়ার জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. তুলিয়া অ্যাকসন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন (তিনি এই পদে দ্বিতীয় নারী)।

সচিবালয় ও অন্যান্য: মহাসচিবের নেতৃত্বে পরিচালিত সচিবালয় হলো সংস্থার মূল কর্মী সংগঠন। বর্তমানে ক্যামেরুনের মার্টিন চুংগং মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া ‘সংসদসমূহের মহাসচিবদের সমিতি’ আইপিইউ-এর একটি প্রধান পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে কাজ করে।

পড়ুন : অনির্দিষ্টকালের জন্য বিমানের রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন