বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কোনো সংশোধন নয়, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধানের সংস্কার করতে হবে। এটা না মানার অর্থই হলো জনগণের আস্থার প্রতি গদ্দারি করা, বিশ্বাসঘাতকতা করা।
আজ রবিবার যশোর প্রেসক্লাবে তৃতীয় দফার লং মার্চ সফল করতে খুলনা বিভাগীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভার আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের আইনি পদ্ধতি বা গণভোটের রায় এড়িয়ে একদলীয়ভাবে সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগকে জনগণ মেনে নেবে না। গণভোটের রায়ের ভিত্তিতেই মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।
লং মার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লং মার্চ নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। এটা দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে জনমত সংঘটিত করতে চাই। সরকার যে জনগণের বিশ্বাসকে ভঙ্গ করেছে, জাতিকে সেটাই আমরা জানাতে চাই।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা উল্লেখ করে সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির এতই অবনতি যে, পুলিশকে একা চলতে নিষেধ করতে হচ্ছে। পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ সকলের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাসসহ দ্রব্যমূল্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করেন জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, সরকার অনিয়ম, দুর্নীতির কারণেই সবকিছু লাগামহীন। এটা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
বর্তমান সরকার দেশের মঙ্গলের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার সবার আগে বাংলাদেশ নয় সবার আগে বিএনপিতে বিশ্বাসী। সারের ডিলারশিপ ও দলীয়করণের মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েম করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩১শে অক্টোবর (শনিবার) ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে খুলনা ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে সমাপ্ত হতে যাওয়া এই তৃতীয় দফার লং মার্চ কর্মসূচি সফল করতে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন, যশোর জেলা কমিটির আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপিসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : সিএনজিতে গরু তুলে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা, জনতার হাতে আটক দুই নারী


