সঙ্গীতের সুর, কণ্ঠের আবেশ, অঙ্কনের রেখা আর ভিডিওর দৃশ্য – সব মিলিয়ে মঞ্চে তৈরি হবে এক অন্যরকম যাত্রার গল্প। অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের যৌথ আয়োজনে ঢাকায় আসছে লো ভোয়াজ দ্য রেজে, একটি ব্যতিক্রমধর্মী বহুমাত্রিক পরিবেশনা, যেখানে সঙ্গীত ও দৃশ্যশিল্প মিলেমিশে তৈরি করবে কাব্যিক ও বর্ণিল এক অভিজ্ঞতা।
Les Productions du Bazar-এর প্রযোজনায় নির্মিত এই পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন চারজন শিল্পী। তাঁদের কণ্ঠ, গিটার, পারকাশন, গান ও অঙ্কনের সঙ্গে যুক্ত হবে ভিডিও, আর এসবের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলবে এক সৃজনশীল ভ্রমণ। তবে এটি শুধু একটি মঞ্চ পরিবেশনা নয়; বরং ভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগের এক শিল্পিত অন্বেষণ। লো ভোয়াজ দ্য রেজে-এর কেন্দ্রে রয়েছে পারস্পরিক পরিচয় ও সাক্ষাৎ , সাংস্কৃতিক সংলাপ, সীমান্ত এবং ভিন্নতা—যে বিষয়গুলো আমাদের আলাদা করার পাশাপাশি একে অপরের আরও কাছেও নিয়ে আসে। সুর ও রেখার এই যাত্রায় দর্শকরাও হয়ে উঠবেন সেই ভ্রমণের অংশ। পরিচিত ও অপরিচিত সংস্কৃতির নানা সীমানা পেরিয়ে লো ভোয়াজ দ্য রেজে তুলে ধরবে পারস্পরিক বোঝাপড়া, কৌতূহল ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক প্রাণবন্ত গল্প।
প্রচলিত কনসার্টের ধারা থেকে ভিন্ন লো ভোয়াজ দ্য রেজে মূলত একটি সম্মিলিত শিল্পযাত্রা। বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির গান এই পরিবেশনায় যুক্ত হয়েছে শিল্পীদের মৌলিক সৃষ্টি, পরিচিত সুর এবং হারিয়ে যাওয়া কিংবা নতুন করে তৈরি গানগুলোর সঙ্গে। সঙ্গীতের সঙ্গে সমান্তরালে মঞ্চে লাইভ অঙ্কনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে গানের আবহ ও গল্প। ফলে শ্রোতারা শুধু সঙ্গীত শোনেন না, একই সঙ্গে চোখের সামনে দেখতে পান সেই সঙ্গীতের একটি দৃশ্যমান বয়ান।
ফ্রান্সের বিভিন্ন থিয়েটার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্কুল, গ্রন্থাগার ও উৎসবে ইতোমধ্যে পরিবেশিত হয়েছে এই শিল্পপ্রকল্প। দেশের বাইরেও রিইউনিয়ন, এল সালভাদর, বুরকিনা ফাসো ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন শিল্পীরা। এসব আয়োজন শুধু পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে ছিল শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময়, কর্মশালা, প্রদর্শনী এবং ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি জার্নাল। এর মধ্য দিয়ে সঙ্গীত ও দৃশ্যশিল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন চারজন শিল্পী, যাঁদের ভিন্নধর্মী শিল্পচর্চার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে লো ভোয়াজ দ্য রেজে-এর সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক জগৎ।
রেজে (Rézé) একজন গিটারবাদক, গায়ক ও সুরকার। তাঁর সঙ্গীতে জ্যাজের পাশাপাশি আফ্রিকান ও ব্রাজিলীয় সংগীতের নানা ঐতিহ্যের প্রভাব রয়েছে। নিজস্ব সুর ও বিভিন্ন সংগীতধারার সমন্বয়ে তিনি পরিবেশনাটিতে নিয়ে আসেন বৈচিত্র্যময় এক সংগীতভাষা।
সোফিরান (Sofiran) একজন পারকাশনবাদক ও কণ্ঠশিল্পী। আফ্রিকান, আফ্রো-কিউবান ও ব্রাজিলীয় সংগীতের বিভিন্ন ধারার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ অনুসন্ধান ও চর্চা পরিবেশনায় যোগ করে শক্তিশালী ছন্দ ও প্রাণবন্ত মাত্রা।
এমে (Emé) একজন শিল্পী, ইলাস্ট্রেটর ও লাইভ স্কেচ শিল্পী। মানুষ, স্থান ও পারস্পরিক সাক্ষাতের নানা মুহূর্ত তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয়। দর্শকদের সামনেই তিনি এসব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণকে তাৎক্ষণিক অঙ্কনে রূপ দেন। ফলে পরিবেশনার দৃশ্যমান অংশটি হয়ে ওঠে এর একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান।
ক্রিস্তো (Christoo) ভিডিও, ফটোগ্রাফি ও শিল্প-প্রযোজনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেন। পরিবেশনার মঞ্চ-পরিচালনা ও দৃশ্যকাহিনি নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সরাসরি সঙ্গীত ও অঙ্কনের সঙ্গে তাঁর ভিডিও ও আলোকচিত্রের সমন্বয় পরিবেশনাটিকে আরও সমৃদ্ধ করে।
চার শিল্পীর এই ভিন্নধর্মী ও পরস্পর-পরিপূরক শিল্পভাষা মিলেমিশে তৈরি করে এমন এক পরিবেশনা, যেখানে শব্দ, দৃশ্য ও গতিশীলতা স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর মধ্য দিয়ে দর্শকরাও অংশ হয়ে ওঠেন আবিষ্কার, পারস্পরিক পরিচয় ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক যৌথ যাত্রার।
লো ভোয়াজ দ্য রেজে-এর কাছে ভ্রমণ মানে শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাড়ি দেওয়া নয়; বরং মানুষ, সংস্কৃতি, ভাষা, অনুভূতি ও নানা গল্পকে জানার এবং আবিষ্কারের একটি উপায়। এই পরিবেশনায় সঙ্গীত ও দৃশ্যের সমন্বয়ে তৈরি হয় একটি অভিন্ন ভাষার পরিসর, যেখানে দর্শকদের আমন্ত্রণ জানানো হয় অপরিচিতের সঙ্গে এক নতুন পরিচয় ও সংযোগের অভিজ্ঞতায়—শোনা, দেখা এবং অংশ নেওয়ার মাধ্যমে।
এই প্রকল্পের রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক ও অংশগ্রহণমূলক দিকও। শিল্পীরা নিয়মিত বিভিন্ন প্রজন্মের অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে সঙ্গীত, ছন্দ ও পারকাশন, অঙ্কন, ফটোগ্রাফি এবং ভিডিও নিয়ে কর্মশালা পরিচালনা করেন। শিল্পচর্চাকে তাঁরা ব্যবহার করেন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, শেখানো এবং পারস্পরিক সংলাপের একটি মাধ্যম হিসেবে।
অনুষ্ঠানের বিস্তারিত
তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সময়: সন্ধ্যা ৭:০০টা
স্থান: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা
বয়স: ৬ বছর ও ঊর্ধ্বে
সবার জন্য উন্মুক্ত | রেজিস্ট্রেশন আবশ্যক
পড়ুন : সাংবাদিকতার কঠিন বাস্তবতা পর্দায়


