চুয়েটের উপাচার্য ভবনে ফের তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অফিসে প্রবেশের পরই চুয়েট উপাচার্য ভবনে ফের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নতুন উপাচার্য।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে এসে নিয়োগের ২০ দিন পর বন্ধ থাকা উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তার সাথে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকেও দেখা যায়। খবর পেয়ে উপাচার্যের এভাবে প্রবেশ করার প্রতিবাদ জানিয়ে চুয়েট ক্যাম্পাসে নতুন কর্মসূচি শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা, যার ফলে ক্যাম্পাস আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন তারা।

উপাচার্য পরিবর্তনের পটভূমি ও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন থেকেই উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল করার পাশাপাশি উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। চুয়েট শিক্ষার্থীরা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়, অথচ প্রজ্ঞাপনে এই আকস্মিক পরিবর্তনের কোনো স্পষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি।

দাবি আদায়ে শাটডাউন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি

নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েম সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন, তাদের সমস্যা শুনতেন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতেন। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে তার একটি জোরালো আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে আন্দোলনকারীরা উল্লেখ করেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের এই আন্দোলন শুধু ৫৬ দিনের কাজের মূল্যায়ন নয়; বরং এই সময়ে তৈরি হওয়া আস্থা, প্রশাসনের সাথে সখ্যতা এবং ক্যাম্পাসের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বিবেচনা করেই তারা সাবেক উপাচার্যকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে শাটডাউন, গণঅবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও হুশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সংকটের সূত্রপাত ও একাডেমিক স্থবিরতা:

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্যকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, অবস্থান কর্মসূচি ও গণস্বাক্ষর অভিযান চালাচ্ছেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি পালন করায় চুয়েটের সার্বিক প্রশাসনিক ও শিক্ষাকার্যক্রম সম্পূর্ণ থমকে গেছে।

চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম জানান, সিভিল, মেকানিক্যাল এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্তত ৬টি বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। আন্দোলন চলমান থাকায় নতুন পরীক্ষার সময়সূচি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেশনজটের তীব্র শঙ্কায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য মন্তব্য করায় ক্ষোভ আরও বাড়ে এবং গত শনিবার শিক্ষার্থীরা তাকে প্রতীকী ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন। তবুও সেশনজট ও শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করা চুয়েট ২০০৩ সালে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৭১ জন শিক্ষক এবং ৬ হাজার ৩৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

পড়ুন : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু ২১ জানুয়ারি, ৫ ধাপে হবে ভোট: ইসি সানাউল্লাহ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন