যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনবহুল ও জনপ্রিয় শহর নিউ ইয়র্ক। আলো ঝলমলে এই শহরকে বলা হয়, ‘যে শহর কখনো ঘুমায় না’। দিন কিংবা রাত, ব্যস্ততা আর উচ্ছ্বাসে মুখর থাকে শহরটির অলিগলি। আর সেই ঝলমলে রাতেই আনন্দ, আড্ডা ও সাফল্যের মুহূর্ত একসঙ্গে উদযাপন করলেন ঢাকাই শোবিজের চার পরিচিত মুখ নির্মাতা রায়হান রাফী, অভিনেত্রী তমা মির্জা, সামিরা খান মাহি ও তানজিয়া জামান মিথিলা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা যায়, নিউ ইয়র্কের রাতের আলোয় উন্মুক্ত একটি স্থানে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তারা। তিন অভিনেত্রীর পরনে নজরকাড়া ঝলমলে পোশাক। অন্যদিকে নির্মাতা রায়হান রাফীর পরনে সাদা টি-শার্ট ও কালো জ্যাকেট। চারজনের হাতেই রয়েছে একটি করে পুরস্কারের ট্রফি। সবার চোখেমুখে আনন্দ আর প্রাপ্তির উচ্ছ্বাস। ছবিগুলোতে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি বিশেষ একটি অর্জনের আনন্দও ফুটে উঠেছে।
জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছিলেন রায়হান রাফী, তমা মির্জা, সামিরা খান মাহি ও তানজিয়া জামান মিথিলা। অনুষ্ঠানে প্রত্যেকেই পুরস্কার পেয়েছেন। আর সেই পুরস্কার হাতে নিয়েই রাতের আলোকোজ্জ্বল পরিবেশে ক্যামেরার সামনে ধরা দেন তারা।
দেশের বাইরে এমন একটি আয়োজনে অংশ নেওয়া এবং একই সঙ্গে পুরস্কার অর্জনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তটি তাদের কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সুবাদে তমা, মাহি ও মিথিলার একসঙ্গে এমন আনন্দঘন সময় কাটানো ভক্তদের কাছেও আগ্রহের বিষয়।
নিউ ইয়র্কের রাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘নিউ ইয়র্ক সিটির এক রাত। অর্জন, বন্ধুত্ব আর দারুণ কিছু স্মৃতির উদযাপন। একটা ভিন্ন শহরে এসে পুরস্কার পাওয়া এবং সেই মুহূর্ত বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া আমার জন্য সত্যিই বিশেষ কিছু। হাসি-আনন্দে ভরপুর এক রাত, যেটার কথা অনেকদিন মনে থাকবে।’
মাহির এই বক্তব্যে উঠে এসেছে পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে স্মরণীয় মুহূর্ত কাটানোর অনুভূতিও। পরিচিত পরিবেশের বাইরে অন্য একটি শহরে গিয়ে নিজের অর্জন উদযাপন করার অভিজ্ঞতা যে তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, তা স্পষ্ট তার কথায়।
একই আয়োজনের বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী তমা মির্জাও। ক্যাপশনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে নিউ ইয়র্ক, আমাদের একসঙ্গে প্রথম বিদেশ ভ্রমণ, পুরস্কার গ্রহণ আর নিজেদের অর্জনকে একসঙ্গে উদযাপন করা। এই পথচলা দীর্ঘ, তবে একসঙ্গে থাকার চেয়ে বেশি মূল্যবান আসলে কিছু নেই। আমার বন্ধুদের সঙ্গে এই সুন্দর মুহূর্ত ভাগাভাগি করে নিতে পেরে সত্যিই আনন্দিত। কিছু বন্ধুত্ব আমাদের পথচলাকে সার্থক করে তোলে। এই বন্ধুত্বের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
তমার এই লেখায় বন্ধুদের সঙ্গে পথচলার আনন্দ ও পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। পুরস্কার অর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কাছের মানুষদের পাশে পাওয়া যে আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়, তার কথায় সেই অনুভূতিই ফুটে উঠেছে।
তমা মির্জা, সামিরা খান মাহি ও তানজিয়া জামান মিথিলার বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। ঢাকায় থাকাকালীনও তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। ব্যক্তিগত সময়ের নানা মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে ভক্তদের কাছেও তাদের বন্ধুত্বের নানা দিক উঠে আসে।
অন্যদিকে, নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় একাধিক প্রকল্পে অভিনয় করেছেন তমা মির্জা। কাজের সূত্রে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নিউ ইয়র্কের ঝলমলে রাতে চার তারকার একসঙ্গে কাটানো সময় হয়ে উঠেছে আনন্দ, বন্ধুত্ব ও অর্জন উদযাপনের বিশেষ মুহূর্ত। হাতে পুরস্কারের ট্রফি আর মুখে হাসি নিয়ে তোলা ছবিগুলো শুধু একটি পুরস্কার অনুষ্ঠানের স্মৃতিই নয়, বরং শোবিজের পরিচিত মানুষদের একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার গল্পও তুলে ধরেছে।
পড়ুন:লো ভোয়াজ দ্য রেজে : সুর, রেখা ও ছবিতে সংস্কৃতির সীমানা পেরোনোর এক যাত্রা
ইমি/


