ছেলে এলেই দাফন করা হবে নাসিমা খানের মরদেহ

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের পরিচিত মুখ ও প্রবীণ অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বড় ছেলে দেশে ফেরার পর তাঁর শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। বিষয়টি জানিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। তবে জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট সময় এবং স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে মারা যান নাসিমা খান। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের পুরোনো দিনের একজন পরিচিত শিল্পীকে হারাল চলচ্চিত্র অঙ্গন।

সনি রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, রোববার রাতে উত্তরার লুবনা হাসপাতাল থেকে নাসিমা খানের মরদেহ নেওয়া হয়। পরে গোসল করিয়ে মরদেহ ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা হয়। সোমবার সকালে তাঁর মরদেহ একটি হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়। অভিনেত্রীর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছাবেন। এরপর সেদিনই জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হবে।

এদিকে নাসিমা খানের ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গত কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রবীণ এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। তাঁর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সূচনালগ্নে অভিনয়জগতে পা রাখেন তিনি। ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী।

কর্মজীবনে তিনি সে সময়ের বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান অভিনেতার বিপরীতে অভিনয় করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, গোলাম মুস্তাফা ও আজিম। নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরের চলচ্চিত্রেও সুনাম অর্জন করেন তিনি।

বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। সে সময়ের চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে দুই অঞ্চলের দর্শকের কাছেই পরিচিত করে তোলে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশের সময় যেসব শিল্পী অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন, নাসিমা খান ছিলেন তাঁদের একজন।

নাসিমা খানের অভিনীত উল্লেখযোগ্য বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’। এসব চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের কর্মজীবনকে সমৃদ্ধ করেছেন।

এ ছাড়া লাহোরে নির্মিত বেশ কয়েকটি উর্দু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘নয়ি লায়লা নয়া মজনু’, ‘গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ’, ‘আঁসু বন গয়ে মোতি’ এবং ‘রোড টু সোয়াত’। বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি উর্দু চলচ্চিত্রে তাঁর কাজ সে সময়ের দুই চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার পরিচয় বহন করে।

স্বাধীনতার পর কিছু সময়ের জন্য রূপালি পর্দা থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারও পর্দায় ফেরেন তিনি। চলচ্চিত্র থেকে বিরতি নিলেও বিনোদনজগতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন নাসিমা খান। এটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ চলচ্চিত্রে অভিনয়। এরপর আর বড় পর্দায় তাঁকে দেখা যায়নি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অবদান রেখেছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্রের একটি পুরোনো অধ্যায়ের অবসান ঘটল। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

পড়ুন:৫ নভেম্বর আসছে ‘রামায়ণ’, প্রকাশ্যে নতুন পোস্টার

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন