চুয়েটের সংকট ছড়াচ্ছে ঢাকায়, শাহবাগে সমাবেশের ডাক

পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন-২-এ প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন। দীর্ঘ সময় ভবনে আটকে থাকার পর নিজের অসুস্থতার কথাও জানিয়েছেন উপাচার্য। তবে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ অন্যদের জন্য সকালের খাবার পৌঁছে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে সোমবার রাতভর প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডা দিতে দেখা যায়।

অবরুদ্ধ অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, কাল রাত ২টায় পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, সেটাই আমরা খেয়েছিলাম। এখানে থেকে আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে, রাতে ঘুমাইনি। এ রকম অনেকেরই অনেক সমস্যা হচ্ছে।

আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, আমি আলোচনা করতে চাই। কিন্তু এখনো তো সেই সুযোগই হয়নি। সোমবার একবার তাদের সামনে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের আচার-আচরণে সেই সুযোগ একদমই পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার মধ্যে সোমবার মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী প্রকৌশলী শাহরিয়ার ও প্রকৌশলী টিটু মো. সোহান। তাঁদের মধ্যে প্রকৌশলী শাহরিয়ারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, নবনিযুক্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। সোমবার তাকে বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও তিনি স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকেছেন। আমরা অবরুদ্ধ সবাইকে সকালের খাবার পৌঁছে দিয়েছি।

চুয়েটের চলমান সংকটের প্রতিবাদে কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীতেও। শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার প্রতিবাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরাও।

এর আগে সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর তিনি ক্যাম্পাসে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন।

পরে উপাচার্য ও তাঁর সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা ভবন না ছাড়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ভবনের ভেতরের ফটক ও মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

পড়ুন: নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে কটূক্তির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি তথ্য উপদেষ্টার

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন