দর কষাকষি করে ঘুষ নেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খতিয়ানের কপি পেতে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে। একই অভিযোগ উঠেছে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দেওয়া মো. রাকিবের বিরুদ্ধেও। ভুক্তভোগীর দাবি, ১৮টি খতিয়ানের তথ্য সংগ্রহ ও কপি পেতে তাঁকে কয়েক দফায় টাকা দিতে হয়েছে। তবে টাকা দেওয়ার কোনো রসিদ পাননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী সবুজ জানান, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাগ নম্বর দিয়ে এসএ খতিয়ান খুঁজতে যান তিনি। এ সময় রাকিব তাঁকে জানান, খতিয়ান খুঁজতে কয়েক দিন লাগবে। তবে কিছু টাকা দিলে খুঁজে দেওয়া সম্ভব। পরে সার্চিং ফি হিসেবে ৩০০ টাকা দিলে তাঁকে ১৮টি খতিয়ানের তথ্য দেওয়া হয়।

সবুজ বলেন, খতিয়ানগুলোর কপি পাওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে তাঁকে রবিবার অফিসে যেতে বলা হয়। সেদিন গেলে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানান, এসব খতিয়ান দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা করে মোট ১ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হবে। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে তিনি ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত ১ হাজার টাকা দিলে রাকিব খতিয়ানের নথির ছবি তুলে একটি কম্পিউটারের দোকানে পাঠান। সেখান থেকে কপি প্রিন্ট করে আনতে বলা হয়। পরে দোকানে আরও ১০০ টাকা দিয়ে ১৮টির মধ্যে ১৬টি খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করেন তিনি। বাকি দুটি খতিয়ানের জন্য সোমবার অফিসে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাননি।

এ ঘটনায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে বজলুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, খতিয়ানগুলো দেওয়ার এখতিয়ার তাঁদের নেই; রেকর্ড রুম থেকে সত্যায়িত কপি আনতে হবে। তবে তাঁরা মাঝেমধ্যে সহযোগিতার জন্য দিয়ে থাকেন। ভিডিওতে তাঁকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিতে বলতেও শোনা যায়।

শুধু খতিয়ানের কপি নয়, ভূমি অফিসে অন্যান্য সেবা পেতেও ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। শাহাজল খান নামের এক ব্যক্তি বলেন, জমির দাখিলার জন্য আবেদন করে পাঁচ দিন অফিসে গিয়েও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে পাননি। পরে তাঁর কাজ আর করা হয়নি।

মোস্তাফিজুর রহমান নামের আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, বিআরএস খতিয়ান এসেছে কি না জানতে কয়েকবার ভূমি অফিসে গিয়েও সমাধান পাননি। পরে জেলা রেকর্ড অফিসে গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে তাঁকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাজনা, নামজারি ও খতিয়ানসংক্রান্ত সেবা নিতে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিসে না পাওয়ায় সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

পড়ুন : নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে কটূক্তির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি তথ্য উপদেষ্টার

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন