ইউনাইটেডকে হারিয়ে অ্যাতলেটিকোর টানা পঞ্চম জয়

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুর্দশা যেন কাটছেই না। আক্রমণে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়লেও স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি ইংলিশ ক্লাবটি। ঘরের মাঠে ২-০ গোলের জয়ে টানা পঞ্চম ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে দিয়েগো সিমিওনের দল। অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইউনাইটেডের জয়হীনতার বৃত্ত দীর্ঘ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই গোল করে অ্যাতলেটিকোকে এগিয়ে দেন পাবলো ব্যারিওস। পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন নাইজেরিয়ান উইঙ্গার আদেমোলা লুকমান। ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লেনি ইউরো লুকমানকে পেছন থেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখলে শেষ দিকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সফরকারীদের।

ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। অ্যাতলেটিকোর বল দখলে ছিল ৫৮ শতাংশ। গোলের লক্ষ্যে তারা শট নেয় পাঁচটি, বিপরীতে মাইকেল ক্যারিকের দলের লক্ষ্যে শট ছিল চারটি।

শুরু থেকেই রক্ষণে দুর্বলতার খেসারত দিতে হয় ইউনাইটেডকে। ম্যাচের মাত্র ৪৭ সেকেন্ডে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দিতে ব্যর্থ হয় তারা। ডি-বক্সে সতীর্থের পাস পেয়ে সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠান ব্যারিওস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি অ্যাতলেটিকোর দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে গত বছর মাত্র ২৭ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন কনর গালাঘার।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ইউনাইটেড। তবে আক্রমণে কিছুটা সক্রিয়তা দেখালেও স্বাগতিকদের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো ২৭তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় অ্যাতলেটিকো। গ্রিমালদোর বাঁকানো শট পোস্ট ও ক্রসবারের সংযোগস্থলে লেগে ফিরে এলে অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত হয় দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে অ্যাতলেটিকো। বিরতির পর নবম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর তিন মিনিট পর গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিল ইউনাইটেডও। ব্রুনো ফার্নান্দেজ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করলেও তাঁর শট লক্ষ্যে থাকেনি। পরে তাঁর আরেকটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

তবে ম্যাচের শেষ দিকে বড় ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। লুকমানকে পেছন থেকে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার লেনি ইউরো। ফলে ম্যাচের শেষ প্রায় ১০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইংলিশ ক্লাবটিকে।

এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় অ্যাতলেটিকো। ডেভিডের শট গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও বিপদ কাটেনি ইউনাইটেডের। ফিরতি বল পেয়ে ফাঁকা জায়গা থেকে সহজেই জালে পাঠান লুকমান। ২-০ ব্যবধানের এই গোলে অ্যাতলেটিকোর জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

এই জয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের ধারায় থাকল সিমিওনের দল। বিপরীতে ক্যারিকের ইউনাইটেড টানা পাঁচ ম্যাচে জয়হীন। ধারাবাহিক ব্যর্থতায় দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই ম্যাচ শেষে দুই দলের পয়েন্ট সমান তিন। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তালিকায় ইউনাইটেডের অবস্থান সপ্তম এবং অ্যাতলেটিকো রয়েছে ১৩ নম্বরে। জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়লেও প্রতিযোগিতায় অবস্থান উন্নত করতে অ্যাতলেটিকোকে সামনে আরও ভালো করতে হবে। অন্যদিকে, ইউনাইটেডের জন্য দ্রুত ছন্দে ফেরা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

পড়ুন:ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কের রাতে রোনালদোর গোল

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন