হলিউড অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কগামী ডেলটা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে দুই বিমানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর এবার পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নার্সকে লাথি মারার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর আইনজীবীর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করেননি তিনি; শারীরিক অসুস্থতা ও ওষুধের সমস্যায় বিভ্রান্ত হয়ে এমন আচরণ করেছিলেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণের পর সেলমাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের একাংশ অস্বীকার করেন ৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।
অভিযোগ অনুযায়ী, উড়োজাহাজে থাকা অবস্থায় একজন অ্যাটেনডেন্টকে ঘুষি মারেন এবং আরেকজনকে কামড় দেন সেলমা। এ ছাড়া আকাশে থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজের দরজা খোলার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
উড়োজাহাজে ঘটনার পর সেলমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগপত্রে এক পুলিশ কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, স্ট্রেচারে সেলমাকে নিরাপদে রাখার সময় তিনি বাঁধন থেকে একটি পা বের করে ওই কর্মকর্তার মুখ, ঘাড় ও বুকে বারবার লাথি মারেন।
পরে হাসপাতালে নেওয়ার পরও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করা এক নার্সের বুকে লাথি মারেন সেলমা—এমন অভিযোগও রয়েছে।
এসব ঘটনায় নিউইয়র্কের কুইন্স আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
১২ অক্টোবর রাতে আদালতে হাজির করা হলে সেলমার আইনজীবী শন বার্নস তাঁর পক্ষে অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিচারক জামিনের অঙ্ক নির্ধারণ করেন নগদ ২০ হাজার ডলার অথবা ৬০ হাজার ডলারের বন্ড। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে আগামী জানুয়ারিতে।
এদিকে উড়োজাহাজের ভেতরে সংঘটিত কথিত হামলার ঘটনায় পৃথক ফেডারেল আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই এ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সেলমাকে নোটিশ দিয়েছে। বিষয়টি ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে নিষ্পত্তির কথা রয়েছে। তবে ওই মামলায় তাঁর হাজিরার তারিখ তখনো নির্ধারিত হয়নি।
ডেলটা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩৮ লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাত ১১টার দিকে এক যাত্রীর আক্রমণাত্মক আচরণের খবর পায় কর্তৃপক্ষ। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পুলিশ সদস্যরা উড়োজাহাজটির কাছে যান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনায় দুজন বিমানকর্মী আহত হওয়ার কথা জানান। তাঁদের একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। উড়োজাহাজের পাইলটের সঙ্গে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডিংয়েও আহত ব্যক্তিদের কথা উঠে এসেছে। সেখানে নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও কামড়ের দাগের উল্লেখ করেন পাইলট। আহতদের পরীক্ষা করার জন্য বিমানবন্দরে চিকিৎসাকর্মী প্রস্তুত রাখার অনুরোধও জানান তিনি।
তবে উড়োজাহাজের ভেতরে কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সেলমার আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, সেলমা এমন একটি ওষুধের একাধিক নির্ধারিত মাত্রা নিতে পারেননি, যা তাঁর স্নায়বিক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজের অতিরিক্ত চাপের পর উড়োজাহাজে উঠেছিলেন সেলমা। যাত্রাপথে তাঁর মাথায় আঘাতও লাগে বলে দাবি করা হয়েছে। ওষুধের মাত্রা বাদ পড়া, মাথায় আঘাত এবং উড়োজাহাজের উচ্চতার প্রভাব মিলিয়ে তিনি তীব্র বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিলেন বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।
সেলমার প্রতিনিধিও এর আগে ভ্যারাইটিকে জানিয়েছিলেন, তাঁর শারীরিক জরুরি অবস্থার কারণেই কথিত ঘটনাগুলো ঘটেছিল। অবতরণের পর তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়েছিল।
সেলমার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনার মধ্যে তাঁর দীর্ঘদিনের অসুস্থতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ২০১৮ সালে তিনি জানান, তিনি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে (এমএস) আক্রান্ত। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
রোগটির কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর থেকে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সেলমা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক আইন প্রণয়নের বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়।
এর আগে ২০১৬ সালে কানকুন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি ফ্লাইটেও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। পরে তিনি জানান, ওয়াইন পান করার পর ওষুধ গ্রহণের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি।
‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’, ‘লিগ্যালি ব্লন্ড’ ও ‘হেলবয়’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া সেলমার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি এখনো বাকি। তাঁর আইনজীবী অসুস্থতাকে ঘটনার কারণ হিসেবে তুলে ধরলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতেই হবে।
পড়ুন:সৌদিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানিতে হুতিদের হামলা
ইমি/


