ঢাকার সাভারে গ্যারেজ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে, গ্যারেজ ভাড়া কমানোসহ যাত্রী পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন এলাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা।
এর আগে গতকাল মধ্যরাতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে অটোরিকশা চালকরা সম্মিলিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সব চালককে আজ কোনো অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে বের না করার নির্দেশনা দেন।
এরপর আজ সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে দলবদ্ধভাবে লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ কোনো সড়ক বা লেনে যেন কোনো অটোরিকশা চলাচল করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ ছাড়া এই আন্দোলন আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তাঁরা।
এ সময় সড়ক-মহাসড়কে কোনো অটোরিকশা চলাচল করতে দেখলেই সেগুলো থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি অটোরিকশাগুলো আটকে রাখছেন আন্দোলনকারীরা। যদিও অন্য কোনো যান চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে দেখা যায়নি তাঁদের।
সকাল থেকে ঢাকার সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও সমর্থনে কর্মবিরতি পালন করা একাধিক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইতিপূর্বে এই এলাকার গ্যারেজগুলোতে অটোরিকশাপ্রতি ব্যাটারি চার্জিং বিলসহ ১৫০ টাকা হারে নেওয়া হতো। গত দেড় বছরে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর অজুহাতে গ্যারেজমালিকরা এই ভাড়া পর্যায়ক্রমে কয়েক দফা বাড়িয়ে দেন। সর্বশেষ গতকাল এই ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন গ্যারেজমালিকরা।
আন্দোলনরত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা এ সময় অবিলম্বে বর্ধিত গ্যারেজ ভাড়া প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো সাপেক্ষে যৌক্তিকভাবে গ্যারেজ ভাড়া নির্ধারণ ও যাত্রী পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানান।
বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সাভারের পৌর এলাকার ব্যাংকটাউন, কাতলাপুর, গেন্ডা, উলাইল, তালবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার কোনো সড়কেই কোনো অটোরিকশা চলাচল করছে না।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এ সময় কিছু অটোরিকশাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেলেও মহাসড়কের উলাইল স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে চলাচলরত এসব অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়াসহ কয়েকজন অটোরিকশাচালক যাত্রী পরিবহন করায় তাঁদের মারধর করতেও দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। তবে সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আন্দোলনের এসব স্পটের কোনোটিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
বেলা পৌনে ১টার দিকে অটোরিকশাচালকদের একটি অংশ সাভারের তারাপুর মাঠে জড়ো হয়। তাঁরা মুক্তির মোড় এলাকায় একটি রোগীবাহী অটোরিকশাসহ অন্তত তিনটি অটোরিকশা ভাঙচুর করেন এবং বিক্ষোভ করতে থাকেন।
মো. ময়নাল হোসেন নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, ব্যাটারি চার্জে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর কারণে গ্যারেজমালিকরা অটোরিকশার ভাড়া বাড়িয়েছেন। এ জন্য তাঁরা গ্যারেজ ভাড়া কমানো ও চার্জিং ফি কমানোর দাবিতে এই আন্দোলন করছেন। দাবি আদায় না হলে এই কর্মসূচি চলবে।
মুক্তির মোড়ে অবস্থানরত অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম। তিনি আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ওসির কথায় তাঁরা কোনো সাড়া দেননি।
জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো গোষ্ঠীর কোনো হাত বা হীন কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না।
পড়ুন : টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
সা/


