স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের খেলোয়াড় নাথান সালিবার চুল টেনে ধরার অপরাধে লাল কার্ড দেখার পর চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র। এর ফলে চলতি মাসেই বার্সেলোনার বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য মৌসুমের হাইভোল্টেজ এল ক্লাসিকো ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের।
বুধবার দিবাগত রাতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি ভিনিসিউসের এই শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। গত শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের ওই ঘটনায় সহিংস আচরণের দায়ে তাকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখানোর কারণে আরও দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট:
চুল টেনে ধরার ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই জুড বেলিংহামের বাড়ানো বলে গোল করে রিয়ালকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছিলেন ভিনিসিউস। কিন্তু পরবর্তীতে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনা করে তার আগের ওই অনভিপ্রেত আচরণ ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখালে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ২৬ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।
ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটির বিবৃতিতে জানানো হয়, বল খেলার কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও সহিংস আচরণ করায় ভিনিসিউসকে দুই ম্যাচ এবং রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তর্ক এবং সতীর্থদের মাধ্যমে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এই চার ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার ফলে তিনি আগামী রোববার সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারছেন না। এমনকি আগামী ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে এল ক্লাসিকো এবং পরবর্তীতে রেসিং সান্তান্দার ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেও মাঠে নামতে পারবেন না তিনি। সমস্ত প্রতিযোগিতা বিবেচনা করলে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির পরই কেবল লা লিগায় ফিরতে পারবেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
ভিনিসিউস ও কোচ হোসে মরিনিয়োর প্রতিক্রিয়া: নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ঠিক দুই ঘণ্টা পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ (যে ম্যাচে ৪-৩ গোলে জয় পায় তারা)। ম্যাচ শেষে লা লিগার শাস্তি প্রসঙ্গে ভিনিসিউস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
‘চুল টেনে ধরার বিষয়টি নিয়ে আমাদের কখনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। লা লিগা ও রেফারিদের সংগঠনের কেউ নিয়মকানুন বোঝাতে সব সময় আসেন, কিন্তু এই নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে কখনও কিছু বলেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ক্ষেত্রে লাল কার্ড দেওয়া হয়েছে, ব্যস– এটাই। আমি কখনও অন্য কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সহিংস আচরণ করিনি। আমাকে অনেক আঘাত করা হয়, অথচ শেষ পর্যন্ত কার্ড দেখতে হয় আমাকেই।’
এদিকে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সঠিক সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিয়ালের কোচ হোসে মরিনিয়ো। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কমিটি কেন এই মুহূর্তে শাস্তি ঘোষণা করল, সেটাই প্রশ্ন। আপনি যদি এই প্রশ্ন করেন, তাহলে নিশ্চয়ই মনে করছেন এর প্রভাব তার ওপর পড়তে পারে। তা না হলে আমাকে প্রশ্নটি করতেন না। কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা উচিত, তারা কেন আজ সকালে কিংবা আগামীকাল সকালে শাস্তির ঘোষণা দিলো না। কেন রিয়াল মাদ্রিদের গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে তা ঘোষণা করল? ভুলে গেলে চলবে না, রিয়াল মাদ্রিদ স্পেনেরই একটি ক্লাব।’
পড়ুন : কেইনের জোড়া গোল ও ওলিসের লাল কার্ড: চ্যাম্পিয়নস লিগে ড্র নিয়ে ফিরল বায়ার্ন মিউনিখ
সা/


