যেকোনো প্রসেসিং বা সংস্কার কাজের চূড়ান্ত গুণগত মান ও নান্দনিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে ফিনিশিং কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর। প্রসেসিং বা প্রাথমিক অবস্থায় অসম্পূর্ণ কাজের ধাপে আসল রূপ স্পষ্ট হওয়া কঠিন।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে সংগৃহীত ৫০টি ব্রডগেজ কোচের জানালা পুরোপুরি না খোলায় গ্রীষ্মকালে সাধারণ যাত্রীরা প্রচণ্ড গরমে চরম কষ্ট ভুগতেন। পূর্বে লালমনিরহাটের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এবং অতীতে পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) পদে দায়িত্ব পালনের সুবাদে যাত্রীদের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি স্বচক্ষে দেখে মানবিক তাগিদ থেকেই অত্যন্ত কম খরচে পুরো জানালা খোলার (মডিফিকেশন) বিশেষ উদ্যোগ নেন সৈয়দপুর কারখানার বর্তমান বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) নূর মোহাম্মদ শাহ সুফি
গত ১৩ অক্টোবর মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন উপলক্ষে ক্যারেজ শপে সংস্কারাধীন একটি যাত্রীবাহী কোচ রাখা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল—কারখানায় কোচের বডি রিপেয়ার, ড্রেসিং, পার্টস সংযোজন, জানালা মডিফিকেশন এবং রঙের কাজ ধাপে ধাপে কীভাবে পরিচালিত হয়, তা সরাসরি উপস্থাপন করা এবং মাননীয় মন্ত্রীর মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ গ্রহণ করা। তবে পরিদর্শনকালে কোচটির মূল মেরামত কাজ চলমান থাকায় সূক্ষ্ম ফিনিশিং, রঙের কাজ ও গ্লাস ফিটিং বাকি ছিল। ফলে প্রাথমিক অবস্থায় কাজের চূড়ান্ত সৌন্দর্য দৃশ্যমান ছিল না।
রেলপথের আধুনিকায়ন ও কাজের মান শতভাগ নিখুঁত করার উদ্দেশ্যে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাঁর পর্যবেক্ষণ ও মতামত ব্যক্ত করেন। কারখানার কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা মাননীয় মন্ত্রীর এই পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত সম্মান ও গঠনমূলক তাগিদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ শাহ সুফি জানান,মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় রেলের শতভাগ মান নিশ্চিত করার স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যেকোনো কাজেরই আসল রূপ ও নান্দনিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে চূড়ান্ত ফিনিশিংয়ের পর। ফিনিশিংয়ের আগের প্রাথমিক ধাপে প্রসেসিং অবস্থা কিছুটা অগোছালো থাকাটাই স্বাভাবিক নিয়ম। প্রদর্শিত কোচটিতে রঙের চূড়ান্ত প্রলেপ ও শেষ মুহূর্তের পালিশ বাকি ছিল। কাজ শেষ হলে এটির মান ও নান্দনিক সৌন্দর্য আন্তর্জাতিক পর্যায়েরই হতো। মন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আমরা শতভাগ ফিনিশিং ও মান নিশ্চিত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছি।
এদিকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও দক্ষ কারিগরদের হাত ধরে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় যে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর দেশে শতভাগ নিজস্ব মেধা ও শ্রমে কোচের অতীব জরুরি ‘বাফার হুক’ উৎপাদন শুরু হয়েছে এই কারখানাতেই। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে অবহেলায় অলস পড়ে থাকা ১২৫টি লাগেজ ভ্যানকে লোকাল ট্রেনের যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে ‘কম্পিউটার ট্রেনের’ সিটে রূপান্তরের চমৎকার মডেল তৈরি এবং এসি চেয়ার কোচে যাত্রীদের ব্যাগ রাখার স্থান সংকটের জটিল সমাধানও কারখানার নিজস্ব কারিগরিতে সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
রেলওয়ের সাধারণ যাত্রীদের সেবা বৃদ্ধি করা এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করাই কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল লক্ষ্য। মাননীয় মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান সংস্কার কাজগুলোর শতভাগ নিখুঁত ফিনিশিং সম্পন্ন করেই চূড়ান্তভাবে কোচগুলো চলাচলের জন্য লাইনে নামানো হবে। সরকার ও রেল প্রশাসনের অভিজ্ঞ সমন্বয়ে সৈয়দপুর কারখানার এই দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনগুলো রেলখাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
পড়ুন : সৌদি আরবে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
সা/


