হাম উপসর্গে চারজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১৩৯২

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দৈনিক ও সামগ্রিক সংক্রমণের চিত্র:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০৬ জন। এতে করে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে মোট হামে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৭৬ জনে।

অন্যদিকে, ল্যাব পরীক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের শরীরে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৯২৬ জনে।

হাসপাতালের তথ্য ও সুস্থতা:

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যান:
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হলেও নিশ্চিত হামে নতুন কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৭৭ জন এবং নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জন মারা গেছেন।

হামের প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ:

স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যানুযায়ী, হামে আক্রান্ত হলে রোগীর দেহে নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লক্ষণ হলো:

তীব্র জ্বর: হামের শুরুতেই শরীর বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক সময় এই জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

সর্দি ও কাশি: অনবরত হাঁচি দেওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং তীব্র শুকনো কাশি হওয়া হামের প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ।

চোখের সমস্যা: আক্রান্ত শিশুর চোখ লাল হয়ে যায়, অনবরত পানি পড়ে এবং আলোতে তাকালে চোখে তীব্র অস্বস্তি বা ব্যথার অনুভূতি হয়।

মুখের ভেতর সাদা দাগ (কপলিক স্পট): সাধারণত জ্বর আসার দুই থেকে তিন দিনের মাথায় মাড়ির পাশে বা গালের ভেতরের চামড়ায় ক্ষুদ্র লবণের দানার মতো সাদাটে দাগ ফুটে ওঠে।

লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ: জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর প্রথম কানের পেছন ও মুখে লাল দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরবর্তীতে তা ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাত-পাসহ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শারীরিক দুর্বলতা ও অরুচি: পেশিতে ব্যথাসহ শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে পাতলা পায়খানা কিংবা বমিও হতে পারে।

পড়ুন : ডেঙ্গুতে ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ১০, আক্রান্ত ১৯৪৩ জন

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন