দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিলো বিএসএফ

কুমিল্লা সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ভুলবশত শূন্যরেখা পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে নিরাপদ ও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যস্থতায় অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এক ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের সীমান্ত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

সীমান্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ওই দুই সদস্য। সীমান্ত এলাকার ভৌগোলিক জটিলতা এবং সঠিক সীমান্ত পিলারের স্পষ্ট চিহ্নিতকরণ বা অবস্থান বুঝতে না পারায় তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ও নো-ম্যানস ল্যান্ড অতিক্রম করে ভারতের ভৌগোলিক সীমানার কিছুটা ভেতরে প্রবেশ করে ফেলেন।

এ সময় সীমান্তে টহলরত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জোয়ানরা তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক করেন। প্রাথমিক জেরার মুখে তারা নিজেদের বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাঁদের কাছে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র ও সরকারি অস্ত্র-পোশাক প্রদর্শন করেন। বিষয়টি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পাশাপাশি বিজিবির স্থানীয় ব্যাটালিয়নকে দ্রুত অবহিত করা হয়।

পতাকা বৈঠক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ

ঘটনাটি জানার পর পরই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা হয় এবং সীমান্ত সংলগ্ন জিরো পয়েন্টে জরুরি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়। বিজিবি ও বিএসএফের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডারদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হয়।

পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয় যে, আটককৃত দুই ব্যক্তি বাংলাদেশ পুলিশের নিয়মিত সদস্য এবং তারা কোনো অপরাধমূলক বা অবৈধ উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করেননি। টহল দেওয়ার সময় পথ ভুল করে অজান্তেই তারা শূন্যরেখা পার হয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে চলে যান। বিজিবি প্রপোজাল নিশ্চিত হওয়ার পর এবং পুলিশ সদস্যদের আইডেন্টিটি কার্ড যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করার শেষে বিএসএফ কর্মকর্তা তাদের হস্তান্তরে সম্মত হন।

আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া

সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি আয়োজিত উক্ত উচ্চপর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিজিবি এবং বিএসএফের সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাগজের প্রক্রিয়া শেষ করে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ বিজিবির প্রতিনিধিদলের কাছে হস্তান্তর করে।

হস্তান্তর শেষে দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আসা হয় এবং তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ শেষে বিজিবির পক্ষ থেকে আটক পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজ থানা বা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কাছে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক আস্থা

দুদেশের সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় প্রায়শই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে যৌথ প্রটোকল, সৌহার্দ্য ও বিজিবি-বিএসএফের গঠনমূলক দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যমে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বড় কোনো জটিলতা ছাড়াই সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনার দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বিদ্যমান প্রফেশনালিজম ও দ্বিপাক্ষিক বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্কের ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে সতর্ক থাকার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে পুনর্ব্যক্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পড়ুন : সিসিটিভি ও বডিওন ক্যামেরার বিশেষ নজরদারিতে ২৫৭টি পূজামণ্ডপ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন