কসবায় মেয়ের সাথে বাবার ঝগড়া, বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় খোরশেদ আলম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ( ১৬ অক্টোবর) দুপুরের দিকে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের কায়েমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসাপাতাল মর্গে পাঠায়।

বিজ্ঞাপন

নিহত খোরশেদ আলম ওই গ্রামের মৃত মুর্তুজ আলীর ছেলে। তবে নিহতের অভিযুক্ত মেয়ে ও স্ত্রীর দাবী অভিমান করে কেরির বড়ি খাওয়ায় তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়া উত্তেজিত হয়ে তার একমাত্র মেয়ে দুই সন্তানের জননী রাবেয়া বেগমকে মারধর করতে থাকে। মেয়ে রাবেয়াও উত্তেজিত হয়ে একটি লাঠি দিয়ে তার বাবাকে উপুর্যপরি আঘাত করে। পরে মেয়ের লাঠির আঘাতে পিতা খোরশেদ মিয়ার মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠে। খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

তবে নিহতের মেয়ে অভিযুক্ত রাবেয়া বেগম জানায়, বিয়ের পর থেকে তার বাবা তাকে ভাল করে দেখতে পারতোনা। বেড়াতে আসলে তার সাথে দুর্ব্যবহার করতো। এরপরও বুধবার সে তার বাবার বাড়ি বেড়াতে আসে। শুক্রবার সকালের দিকে অনর্থক তার পিতা তার সাথে উগ্র আচরন শুরু করে। প্রতিবাদ করায় তার পিতা তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাথারী মারতে থাকে। এক পর্যায়ে সেও বাবার মার সহ্য করতে না পেরে একটি লাঠি দিয়ে তার বাবাকে কয়েকটি আঘাত করে। তখন তার পিতা তাকে আবারও মারার জন্য লাঠি আনতে গেলে ওই লাঠিতে লেগে তার হাত কেটে যায়। পরে লাঠি ফেলে দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষন পর সে তার বাবার পায়ে ধরে ক্ষমা চায়। তার হাতের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়িতে এসে গোপনে অভিমানে কেরির বড়ি নামে বিষ পান করে ফেলে বাবা। টের পেয়ে বাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে তার পেটের বিষক্রিয়া ওয়াস করার পর তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। কুমিল্লা নেয়ার পথে তার পিতার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। রাবেয়া তার বাবাকে লাঠি দিয়ে আঘাতের কথা স্বীকার করে। পরে তার বাবার মৃত্যু হয় বলেও স্বীকার করে। এ ঘটনার সাথে মা মেয়ে দুজনই জড়িত থাকতে পারে বলে ধারনা করেন তিনি।

কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাঠির আঘাতে মৃত্যু হয়েছে, এমন তথ্য জানা নেই। বিকেলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। নিরাপত্তার স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মা মেয়ে দুজনকেই পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


পড়ুন : ভারতে আন্দোলন : অভিজিৎ দিপকে ও নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন