ঢাকাই শোবিজে অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে দাম্পত্য টানাপড়েনের গুঞ্জনের মধ্যেই আলোচনায় এসেছেন চিত্রগ্রাহক (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি বা ডিওপি) আবদুল মামুন। সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর কথিত প্রেমিকা তিশা। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান মামুন।
তিশার অভিযোগ, সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠতার কারণেই তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বিয়ের পরিকল্পনা ভেঙে গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের কিংবা আবদুল মামুনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তিশার বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবিলা নূর অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পরপরই তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। আগামী ১৫ মে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন আগে মামুন তাঁকে জানান, তিনি আর বিয়ে করতে চান না।
বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর কারণ জানতে চেয়েও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ তিশার। পরে সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানতে পারেন বলেও দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমকে তিশা বলেন, “যা শুনেছেন সব সত্য। সাবিলা নূরের কারণেই আমার দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং বিয়ে ভেঙে গেছে। ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবার থেকে বিয়ের সব আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু আবদুল মামুন হঠাৎ করে জানায়, সে বিয়ে করতে চায় না। পরবর্তীতে জানতে পারি, সাবিলা নূরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে আবদুল মামুন।”
তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তিশার দাবি, মামুন বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তাঁর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে মামুনের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাতেই কাজ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
তিশা আরও দাবি করেন, সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের সম্পর্কের বিষয়টি শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই জানেন বলে তাঁর ধারণা। এ ঘটনা জানার পর থেকে মামুনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্কের এমন পরিণতিতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান।
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিশা বলেন, “ওরা দুজন আমার সঙ্গে কাজটি ভালো করেনি। সাবিলা নূর আমাদের বিষয় সব জানতেন। কিন্তু সে মেয়ে হয়েও একটিবার আরেকটি মেয়ের কথা ভাবেনি। আমার বড় ক্ষতি করল। আবদুল মামুন একজন তারকা পেয়ে আমাকে ভুলে গেছে।”
তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ায় তিনি গভীরভাবে হতাশ হয়েছেন।
তিশার দাবি, তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা আরও আগে থাকলেও ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় তারকার সঙ্গে কাজের সুযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তিনি বিয়ের তারিখ পেছানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন বলে জানান।
তবে শেষ পর্যন্ত বিয়ের পরিকল্পনা ভেঙে যাওয়ায় বিষয়টি তাঁর জন্য আরও কষ্টের হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিশা আরও জানান, এ ঘটনায় তাঁর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করেছিল। তবে তিনি তাতে সম্মতি দেননি। বিয়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে কেন মামুন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে সাবিলা নূর ও তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের দাম্পত্য জীবন নিয়েও সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা চলছে। দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৯ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং আলাদা থাকার খবরও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সাবিলা কিংবা নেহালের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
অন্যদিকে, ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে সাবিলা নূর ও শাকিব খানকে ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। তবে শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা তাঁর দাম্পত্য জীবনে এর কোনো প্রভাব রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। তাই এসব আলোচনাকে যাচাই না হওয়া গুঞ্জন হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
তিশার দাবি, ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংকে কেন্দ্র করেই সাবিলা নূর ও আবদুল মামুনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশোর কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। পরে গণমাধ্যমকে বার্তার মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।
সব মিলিয়ে তিশার অভিযোগ ঘিরে ঢাকাই শোবিজে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবিলা নূর, আবদুল মামুন ও নেহাল সুনন্দ তাহেরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের মতো তথ্যও এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের আগে এ ঘটনাকে অভিযোগের পর্যায়েই বিবেচনা করা জরুরি।
পড়ুন:অভিনেতা ইমরান খানের পাশে দাঁড়ালেন যারা
ইমি/


