বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ওপর আধিপত্যটা শুধু সিকান্দার রাজাদের। সর্বশেষ দুই ওয়ানডে সিরিজেই জিতেছে তারা। এবার ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে! প্রথম ম্যাচে তাওহীদ হৃদয়ের দলকে ৯৯ রানে হারিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে।
টসে জিতে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে পুরো ৫০ ওভার খেলে ৮ উইকেটে করেছে ২৭১ রান। জিম্বাবুয়ের এই সংগ্রহে সর্বোচ্চ ৯৩ রান ক্রেইগ আরভিনের, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮১ ব্রেন্ডন টেলরের। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করে এসেছে ৯ ও ১০ নম্বরে দুই ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে।
জিম্বাবুয়ের ২৭১ রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়েছিল বাংলাদেশের। প্রথম দুই ওভারে ১৬ রান তুলেন তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার। মুজারাবানির প্রথম ওভার থেকে আসে ৭ রান, একটি বাউন্ডারি মারেন তানজিদ। ইভানসের করা দ্বিতীয় ওভার থেকে আসে ৯ রান। একটি চার মারেন তানজিদ, আরেকটি সৌম্য।
তানজিদ হাসান তামিমই রান তুলছিলেন ভালো গতিতে। এর মধ্যেই তাঁর সঙ্গী সৌম্য সরকার আউট হয়ে যান। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৭ বলে ৯ রান করে আউট হন সৌম্য।
ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তানজিদ। প্রথম ওভার থেকেই জিম্বাবুয়ের পেসারদের ওপর চড়াও হন তিনি। তার আগ্রাসনে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নেন জিম্বাবুয়ের বোলাররা। পাওয়ারপ্লের শেষ বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৪৬ রান করেন তানজিদ।
তানজিদের বিদায়ের পর পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর দ্রুত ফিরে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও (৪)। বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়ান সিকান্দার রাজা। তার ধারালো স্পিনে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরেন তাওহীদ হৃদয় (১৩)।
এরপর বাংলাদেশের ইনিংসে বাড়তে থাকে ডট বলের সংখ্যা। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে স্ট্রাইক বদলাতে না পারার দুর্বলতা আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্যাটারদের ভুল শট নির্বাচন ও তাড়াহুড়ো করে রান তোলার চেষ্টাও বিপদ ডেকে আনে। কেউই বড় জুটি গড়তে পারেননি।
এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাইফ হাসান। কিন্তু সতীর্থদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সঙ্গ না পাওয়ায় তার লড়াইও শেষ হয় ২৬ রানে। শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের কিছু আক্রমণাত্মক শট দর্শকদের সামান্য বিনোদন দিলেও ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি জিম্বাবুয়ের হাতে চলে যায়। বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৭২ রানে। তাসকিন কিছু বাউন্ডারি মেরে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ব্র্যাড ইভান্স। ৪৫ রানে চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান নিয়ামহুরি একটি করে উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন।
এই জয় শুধু জিম্বাবুয়েকে ত্রিদেশীয় সিরিজে এগিয়ে রাখেনি, নেট রানরেটেও দিয়েছে বড় সুবিধা। অন্যদিকে বড় ধাক্কায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশের।
পড়ুন : বাংলাদেশকে ২৭২ রানের লক্ষ্য দিলো জিম্বাবুয়ে


