অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও মার্কিন ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিনের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। এই ধরনের সহিংসতা রোধে ইসরায়েলকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রুবিও জানান, ঘটনাটির বিষয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হননি। তবে এ সংক্রান্ত যে ছবিগুলো তাঁর নজরে এসেছে, সেগুলোকে ‘ভালো কিছু মনে হয়নি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সহিংসতার বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়ে রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো নতুন সংঘাত বা সংকট দেখতে চান না। আগামীতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা ইসরায়েলকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘এই মুহূর্তে আমাদের এমন কিছু প্রয়োজন নেই; ইসরায়েলেরও এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন নেই।’
এই হামলার কঠোর নিন্দা ও জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শনিবার দেওয়া এক বার্তায় হাকাবি লেখেন, ‘একজন নারী আলোকচিত্রী ওপর আক্রমণ হলো মুখোশধারী কাপুরুষদের দ্বারা সংঘটিত এক জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিরস্ত্র সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের বছরের পর বছর কারাগারে থাকা উচিত। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় অংশ নেয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগে বিচারের দাবি জানিয়েছি।’
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন পোস্টের ৬৪ বছর বয়সী ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিন শুক্রবার পশ্চিম তীরের আবু ফালাহ এলাকার কাছে ফিলিস্তিনিদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঐ সময় একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ওই এলাকায় প্রবেশ করে হেইডি লেভিন ও কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে নৃশংসভাবে মারধর করে। একইসাথে তারা লেভিনের পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও পেশাগত সরঞ্জামাদি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে লেভিন পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জানান, বোতল ও গুলতি হাতে আসা হামলাকারীরা তাকে প্রায় ১০ মিনিট ধরে অনবরত লাথি মারতে থাকে। জীবন বাঁচানোর আকুতি নিয়ে তিনি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ শক্ত করে আঁকড়ে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, গায়ে সুরক্ষাবর্ম ও মাথায় হেলমেট না থাকলে হয়তো সেদিন তাঁর প্রাণই যেত না।
আহত লেভিনকে ঘটনার পরপরই রামাল্লার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আবু ফালাহ এলাকা থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) লেভিনের মেয়ে জানান, হামলায় তাঁর মায়ের একটি পাঁজরের হাড় ও মেরুদণ্ডের একাধিক কশেরুকা ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম ছাড়াও তাঁর একটি আঙুল হাত থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই বর্বরোচিত ঘটনার দায় এড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে বসতি স্থাপনপন্থী ডানপন্থি ভোটারদের সমর্থন জোরালো করার অংশ হিসেবে নেতানিয়াহু শুক্রবার দাবি করেন, এই হামলার পেছনে ফিলিস্তিনি কিংবা ‘চরম বামপন্থি’ কর্মীরাও জড়িত থাকতে পারে।
তবে রাষ্ট্রদূত হাকাবিকে সাধারণত ইসরায়েলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে গণ্য করা হলেও, মার্কিন নাগরিকের ওপর ইসরায়েলিদের এই হামলার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ চেপে রাখেননি। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর হাকাবি তাঁর বিবৃতিতে হামলাকারীদের সরাসরি ‘বসতি স্থাপনকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন।
পড়ুন : তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
সা/


