ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে প্রাণহানি বাড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহিজ প্রদেশে হুতিদের হামলায় দেশটির আট সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে তাইজে গোলাবর্ষণে প্রাণ গেছে তিন বেসামরিক নাগরিকের। পাল্টা অভিযানে ১২ হুতি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সেনাবাহিনী আট সেনা নিহত হওয়ার তথ্য জানায়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, লাহিজের আল-মাকাতিরাহ ফ্রন্টে সেনারা প্রাণ হারান। এক বিবৃতিতে তুর আল-বাহাহ সামরিক অক্ষের পক্ষ থেকে তাঁদের মৃত্যুর কথা জানানো হলেও হামলার ধরন বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আট সেনা নিহত হওয়ার খবরের পর সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, তাইজ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-আকরুদ এলাকায় অভিযানে ১২ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
এর আগে শনিবার সকালে তাইজে হুতিদের গোলাবর্ষণে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
সংঘাতের মাত্রা তুলে ধরে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৪১৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে। শনিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলির দাবি, এসব হামলায় প্রায় ৮০০ হুতি সদস্য হতাহত হয়েছেন। এ ছাড়া হুতিদের ১৯০টিরও বেশি সাঁজোয়া যান, যুদ্ধ সরঞ্জাম, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা ধ্বংস অথবা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও গোলাবর্ষণের অবস্থানেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির বিষয়ে হুতিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পেছনে রয়েছে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা। চলতি বছরের জুলাই থেকে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের ব্যাপক লড়াই শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সানায় বোমা হামলার পর সংঘর্ষ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সৌদি আরব বিমান হামলার মাধ্যমে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। জবাবে হুতিরাও সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা চালায়।
ইয়েমেনের বর্তমান সংকটের শিকড় আরও গভীরে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির একাধিক প্রদেশ দখল করে নেয়। এরপর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। হুতিদের রাজধানী থেকে সরিয়ে দিতে ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে বিমান হামলা চালায়।
দীর্ঘ এই যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি ও জনজীবন। সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের বিপুলসংখ্যক মানুষ ভয়াবহ খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়ে। নতুন করে লড়াই বাড়তে থাকায় সেই মানবিক বিপর্যয় আবারও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পড়ুন: ফ্রান্সে তীব্র বিক্ষোভে রণক্ষেত্র বিভিন্ন শহর, ১২ শতাধিক গ্রেপ্তার
আর/


