ভারতের দুই ভিন্ন রাজ্যে দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ মোট ৩১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে মন্দিরের ভক্তদের ওপর ট্রাক উঠে গিয়ে ১২ জন এবং পশ্চিমবঙ্গের একটি পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে ও সন্ধ্যার দিকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
গোয়ালিয়রে ট্রাকচাপায় নিহত ১২ ভক্ত
হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে ভক্তদের ওপর একটি ধানবোঝাই ট্রাক উঠে যাওয়ার পর মন্দিরের প্রবেশপথের ফটকে ধাক্কা দেয়। গত শনিবার গভীর রাতে (রোববার রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে) সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অনেকে হতাহত হন।
গোয়ালিয়রের পুলিশ সুপার (এসএসপি) ধর্মবীর সিং (ধর্মবীর যাদব) জানান, সপ্তমী উপলক্ষে ওইদিন রাতে গোয়ালিয়র ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ওই এলাকায় ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছিল এবং চিন্নরের দিক থেকে আসা ট্রাকটিকে পুলিশ ব্যারিকেডের কাছে থামানো হয়েছিল। কিন্তু ঢালু রাস্তায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তার পাশের দোকান ও মন্দিরের বাইরে জড়ো হওয়া ভক্তদের ওপর উঠে যায়। এরপর মন্দিরের বাইরের দেওয়াল ও গেটে গিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়।
প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা ধারণা করা হলেও এ দুর্ঘটনায় প্রায় ৪১ থেকে ৩৯ জন আহত হন, যাদের দ্রুত গোয়ালিয়রের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ১২ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা সবাই গোয়ালিয়র ও আশপাশের জেলার বাসিন্দা এবং তারা দলবদ্ধভাবে মন্দিরে এসেছিলেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন ভক্তের অবস্থা গুরুতর এবং তাদের মধ্যে মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় প্রসাদ বিক্রির পাঁচ থেকে ছয়টি দোকান ও মন্দিরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধসে পড়া দেয়ালের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে।
পশ্চিমবঙ্গে পূজা প্যান্ডেলে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু
এদিকে একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চোরবাজার সার্বজনীন পূজা প্যান্ডেলে অতিরিক্ত ভিড় ও প্যানিক ছড়ানোর জেরে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী বিনয় কুমার বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে প্যান্ডেলে অতিরিক্ত মানুষের সমাগম ঘটে। বৃষ্টির কারণে লোকজন প্যান্ডেল থেকে বের হতে না চাওয়ায় এবং এর মধ্যে আরও মানুষ ভেতরে প্রবেশ করায় প্রচণ্ড চাপাচাপির সৃষ্টি হয়। পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে প্যান্ডেল কমিটি থেকে মাইকে বারবার লোকজনকে বেরিয়ে যাওয়ার তাগাদা দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত মানুষের চাপে প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার ঘোষণা দেওয়া হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আর এই ত্রাসের পরেই পদদলনের ঘটনা ঘটে, যা কেড়ে নেয় ১৯টি প্রাণ। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নারী, ১টি শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বর্তমানে ২৫ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর এবং বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। দুর্ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে এবং কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পূজা প্যান্ডেল কমিটির সদস্যসহ ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি, নিহতদের প্রতিটি পরিবারের জন্য ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে ‘ডি গ্রেড’ এর সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া আহতদের প্রত্যেককে ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
পড়ুন : ফ্রান্সে তীব্র বিক্ষোভে রণক্ষেত্র বিভিন্ন শহর, ১২ শতাধিক গ্রেপ্তার
সা/


