দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও ত্যাগের পরও প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকার সাত কলেজ ছাত্রদলের একাধিক নেতা। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন তাঁরা।
সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম রুবেল তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার কি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের? তিনি বলেন, দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকার সরকারি কলেজগুলোর নেতাকর্মীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ের পরিবর্তে ত্যাগ, অবদান, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ভিত্তিতে মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি।
কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিমও ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অন্য ইউনিট থেকে দলের কঠিন সময়ে রাজনীতি করে নেতৃত্ব ধরে রাখা নেতাকর্মীরা কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার রাখেন না? নাকি নির্দিষ্ট ইউনিটের বাইরে রাজনীতি করা নেতাকর্মীরা মূল্যহীন?
তাঁর পোস্টের মন্তব্যের ঘরে নিজেদের ক্ষোভ তুলে ধরেন অন্য নেতারাও। তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম উদ্দীন দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন সদস্যরাও সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা নেতাকর্মীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সদস্য আল আমিন হোসেন জুয়েলও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব মিল্লাদ হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই আন্দোলনে ঢাকার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। এরপরও একটি নির্দিষ্ট ইউনিটকে বারবার অগ্রাধিকার দেওয়ায় অন্য ইউনিটের নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাত কলেজ ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ শুধু একটি ইউনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্য ইউনিটের নেতাকর্মীদেরও মূল্যায়ন করা উচিত।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
পড়ুন : বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক ইএসডিপি-এমওসি চুক্তি সই: ২০২৭ সাল থেকে শুরু হচ্ছে কর্মী নিয়োগ
সা/


