নেত্রকোনায় অটোরিকশায় বিলাতী মদ, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

জীবনের যে বয়সে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মেতে থাকার কথা, স্বপ্ন দেখার কথা সুন্দর আগামীর- ঠিক সেই বয়সেই অন্ধকার জগতের হাতছানিতে পথ হারাচ্ছে অনেক তরুণ। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার প্রলোভন কিংবা অসৎ সঙ্গ, কারণ যাই হোক না কেন, মাদকের সর্বনাশা ছোবল ধ্বংস করছে অসংখ্য পরিবারকে। তবে সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে প্রতিনিয়ত নীরব যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তেমনি এক ধারাবাহিক অভিযানে অভিনব কায়দায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে মাদক পাচারকালে ৭২ বোতল ভারতীয় বিলাতী মদসহ আব্দুল খালেক (২৩) নামের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি দল।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সোয়া ৭টার দিকে নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযানের তথ্যটি জানানো হয়। এর আগে, এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নেত্রকোনা সদর থানাধীন এলাকা থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের চালান অটোরিকশায় করে পাচার হচ্ছে- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল ডিএনসির আভিযানিক দল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাওসারুল হাসান রনির নিবিড় তত্ত্বাবধানে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নেত্রকোনা সদর থানাধীন রাজেন্দ্রপুর পিডিবি পাওয়ার গ্রিডের পশ্চিম পাশে, সাকুয়া থেকে সনুরা বাজারগামী রাস্তায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করেন ডিএনসির সদস্যরা। সাধারণ যাত্রীবাহী বাহন মনে হলেও তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। অটোরিকশার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ৭২ বোতল ভারতীয় বিলাতী মদ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করার পাশাপাশি চালক ও মাদক কারবারি মো. আব্দুল খালেককে আটক করা হয়।

ডিএনসি জানায়, গ্রেফতারকৃত মো. আব্দুল খালেকের বয়স মাত্র ২৩ বছর। সে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ৮নং রংছাতি ইউনিয়নের গ্রামপাড়া বড়দুয়ার গ্রামের মো. ফারুক হোসেন ও মোছা. খাদিজা খাতুন দম্পতির সন্তান। এই বয়সেই এমন বিশাল মাদকের চালানের সাথে তার সম্পৃক্ততা স্থানীয়দেরও হতবাক করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ঘটনায় ডিএনসির পরিদর্শক খন্দকার ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। শুধুমাত্র বাহক নয়, বরং মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদেরও শিকড় উপড়ে ফেলতে কাজ করছেন তারা।

সমাজের সচেতন মহলের মতে, আব্দুল খালেকের মতো তরুণদের এমন বিপথগামী হওয়াটা আমাদের সবার জন্যই অশনিসংকেত। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠন করা সম্ভব। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু ফাদার রিগনের মোংলায় নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন