ছেলেকে জমি লিখে না দেওয়ায় ১১৪ বছরের অসুস্থ বাবাকে আটকে রাখার অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার ঢালী পাড়া এলাকায় ১১৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাজ্বী মুনসুর আলী বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরলেও হাসপাতালে যেতে পারছেন না নিজেরই ঔরসজাত সন্তানের কারণে। ঘরের সামনে টিনের বেড়া তুলে যাতায়াতের রাস্তাও আটকে দিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী হাজ্বী মুনসুর আলী আবদার গ্রামের ঢালী পাড়া এলাকার মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে। আর অভিযুক্ত তাঁরই বড় ছেলে আব্দুল কাদির (৮০)।

ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, বাবা আজ মৃত্যুশয্যায়। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নিয়ে যেতে পারছি না। বাসার সামনে টিনের বেড়া দেওয়া। জমি লিখে না দিলে বাবাকে চিকিৎসা করতে দিবে না বড় ভাই। পাড়া প্রতিবেশী সবাই অনুরোধ করলেও কারো কথা শুনেনি। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে এই অবস্থা চলছে। আব্বার শরীরে পচন ধরেছে। বড় ভাইয়ের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি আমরা তার শর্ত একটাই জমি লিখে দিলেই হাসপাতালে নিতে দিবে নাহলে দিবে না।

অভিযুক্ত ছেলে আব্দুল কাদির বলেন, আমার অংশের জমি লিখে দেওয়া না পর্যন্ত হাসপাতালে নিতে দেব না। আমার গলা কাইট্টাল্লেও না। আমার জেল ফাঁস হলেও সমস্যা নেই। আপনাদের শক্তি থাকলে আপনারা নিয়ে যান। আগে সম্পদ লিখে দিয়ে হাসপাতালে নিতে হবে।

বৃদ্ধের নাতি বাচ্চু মিয়া বলেন, নানাকে চিকিৎসা করানোর জন্য মাকে নিয়ে আসছি। কিন্তু বড় মামার বাধার কারণে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ির সামনে দেওয়া হয়েছে বেড়া। অনেক চেষ্টা তদবির করে নানাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও স্যারের আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় ইতিমধ্যে গ্রাম পুলিশের সদস্যের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বৃদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঞাঁ বলেন, আমি খবর পেয়ে সাথে সাথেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছি বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা করানোর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় অটোরিকশায় বিলাতী মদ, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন