দেশের উচ্চশিক্ষার সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) ৩৪ বছর পূর্ণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের এই গুরুত্বপূর্ণ পথচলাকে কেন্দ্র করে মূল ক্যাম্পাস ও নগর কার্যালয়ের প্রধান ফটক এবং ভবনগুলোতে রঙিন ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এছাড়া, বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়ার আয়োজন সহ নানা কর্মসূচি পালনের তথ্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাইয়েবা তাসনীম সিরাজ এবং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষত গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চলের নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণ-তরুণীদের উচ্চশিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
১৯৯২ সালের ২০ অক্টোবর মহান জাতীয় সংসদে ৩৭ নম্বর আইন পাস করা হয় এবং এর পরদিন গেজেট প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চালুকৃত এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমানে দেশের মোট উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালিত হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। বর্তমানে এর আওতাভুক্ত ২ হাজার ৩১৮টি কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন, যেখানে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী এখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে দেশে ও বিদেশে শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান যুগ ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি সেশনজট নিরসন, শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং গবেষণা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
পড়ুন : মিসরে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১৩
সা/


