মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চুরির একটি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে বড়লেখা, জুড়ী ও সিলেট মহানগরী থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ২ ভরি ১১ আনা ৯ পয়েন্ট।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বড়লেখা থানা পুলিশের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে বড়লেখা থানাধীন দক্ষিণভাগ এলাকার বাসিন্দা সিএনজিচালক জসিম উদ্দিন তাঁর গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য বসতঘরে তালা দিয়ে বাইরে যান।
এ সুযোগে অজ্ঞাতনামা চোরেরা ঘরের পেছনের জানালার সিটকিনি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওয়ারড্রপে রাখা তাঁর ভাবির স্বর্ণের গলার হার ও কানের দুল এবং দুটি মোবাইল ফোন—একটি রেডমি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন—চুরি করে নিয়ে যায়।
এজাহারে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক ওজন তিন ভরি এবং চোরাই মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর বড়লেখা থানায় মামলা নং-১১, পেনাল কোডের ৪৫৭/৩৮০ ধারায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্তকরণ ও চোরাই মালামাল উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে বড়লেখা থানা পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম, এসআই অলিয়ার রহমান ও এএসআই নজরুল ইসলাম বাবুসহ পুলিশের একটি দল দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে।
গত ২০ অক্টোবর বড়লেখা থানাধীন দক্ষিণভাগ এলাকা থেকে জিল্লুর মিয়া (২৬), মনির হোসেন (৩৩) ও আব্দুল আহাদকে (৪৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পারভেজ আহমদ (২৭) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া চোরাই স্বর্ণ বিক্রির অর্থ হিসেবে শনাক্ত নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, পারভেজ আহমদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তাঁর সহযোগী হিসেবে শনাক্ত সুমন আহমদকে (৩৮) জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পারভেজ আহমদ ও সুমন আহমদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লালদিঘিরপাড় এলাকার রহমান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পুষ্পা জুয়েলার্সের ১৩ নম্বর দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সাইদুর রহমানকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া একটি স্বর্ণের গলার হার ও দুটি কানের দুল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার বাদী নিজে শনাক্ত করেন। পরে পরিমাপ করে স্বর্ণালংকারগুলোর মোট ওজন পাওয়া যায় ২ ভরি ১১ আনা ৯ পয়েন্ট। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে চুরি যাওয়া দুটি মোবাইল ফোন, একটি স্বর্ণের গলার হার ও দুটি কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল উদ্ধারে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার ছয়জনকে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘অপরাধ দমন, চুরি প্রতিরোধ, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি’।
পড়ুন : রাজশাহী শহর থেকে ১০৩টি ককটেল উদ্ধার
সা/


