‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’, বিজয়া দশমীতে জাতীয় ঐক্যের ডাক রাষ্ট্রপতির

শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী ২০ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক এবং কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ সময় তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার।”

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানির বিপরীতে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বিশ্ব যখন অশান্ত, তখন এ দেশের সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছেন—যা আমাদের অন্যতম বড় অর্জন। হাজার বছর ধরে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী এই ভূখণ্ডের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সমস্ত গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। এই সম্প্রীতি যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।

কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয় বলে সতর্ক করেন রাষ্ট্রপতি। এ ধরনের অপচেষ্টা রুখে দিতে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার ও আপসহীন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই দেশ আমাদের সকলের। সকলে মিলে দেশকে গড়তে হবে।”

দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়ই এই উৎসবের মূল বার্তা। তাই ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিকের বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হওয়া কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি ‘জাতীয় কমিটি’ গঠনের জোরালো আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক এবং সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেছে।

সকল নাগরিক যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এর আগে বঙ্গভবনের দরবার হলে এসে পৌঁছালে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রিত অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

পড়ুন : ১ নভেম্বর থেকে স্ট্রিট ফুড ও রেস্তোরাঁর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন