রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তার মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে পৌঁছায়।
এর আগে, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদ। তিনি বগুড়ার শাহজাহানপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
২২ অক্টোবর রিয়াদ সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি নিয়ে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট (নম্বর BS 362) রওনা হয়। পরে ফ্লাইটটি ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের একজন সৌদি প্রবাসী শাহেদ।
সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে নিহত বেড়ে দুই, একজন ভারতীয় অপরজন সৌদির
সৌদির দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এ হামলায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয়; অপরজন সৌদির নাগরিক।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সৌদির বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দাম্মামের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালায় হুথিরা। তবে এ হামলায় তারা ড্রোন নাকি মিসাইল ব্যবহার করেছে সেটি জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি নিরাপত্তাবাহিনীকে নিয়ে এখন নিরূপণ করা হচ্ছে। আর অল্প সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে আবারও প্লেন ওঠানামা স্বাভাবিক হয়ে যায় বলে উল্লেখ করেছে তারা।
গত জুলাই থেকে সৌদি ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। ওই মাসে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি প্লেন অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ওই প্লেনে ইরান থেকে হুথি নেতারা ফিরছিলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হুথিরা সৌদিতে হামলা চালায়। তারা দেশটির বিমানবন্দর ও তেল পরিশোধনাগারকে টার্গেট করে। অপরদিকে সৌদি জোট হুথিদের রাজধানী সানা থেকে সরিয়ে দিতে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ নামে একটি নতুন অভিযান শুরু করেছে। এতে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
রিয়াদ-মদিনাসহ চার অঞ্চলে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা
সৌদি আরবের আকাশে ১১টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। রিয়াদ-মদিনাসহ সৌদির চার অঞ্চলে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই চেষ্টা হয়।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইয়েমেনে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এ তথ্য জানায়। এর এক দিন আগে সৌদির পূর্বাঞ্চলে হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, রিয়াদ, মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে ড্রোনগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়। অন্যদিকে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরানের দিকে ছুটে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দেয়া সর্বশেষ বিবৃতিতে জোটটি জানায়, দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরও দুটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে রিয়াদ ও মদিনার আকাশে চারটি ড্রোন, শুধু রিয়াদের আকাশে একটি এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে চারটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল জোটটি।
তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল কিংবা সেগুলো প্রতিহত করার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটির পূর্বাঞ্চলে হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর দেয়ার এক দিন পর এসব ঘোষণা এল। এর আগে সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নস্যাৎ করা হলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত হন। এছাড়া দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও দুজন নিহত হন।
আনাদোলু বলছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবারও সাতটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। বাকি ছয়টি মদিনা ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশে প্রতিহত করা হয়।
চলতি বছরের জুলাই থেকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুতিদের নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সর্বশেষ এসব ঘটনা ঘটল।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির আরও কয়েকটি এলাকা দখল করে নেয় ইরান সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
পড়ুন : সৌদির কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ১


