বলিউড সুপারস্টার রণবীর কাপুরকে রামের চরিত্রে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর অসংখ্য ভক্ত। নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত বহুল আলোচিত বিগ বাজেট সিনেমা ‘রামায়ণ’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পাশাপাশি এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও ছবিটি দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে সাধারণ মাসিক বা বার্ষিক সাবস্ক্রিপশনের আওতায় নয়, পে-পার-ভিউ পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধ করে সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবেন ভারতীয় দর্শকেরা।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর দীপাবলি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে ডিজিটাল মাধ্যমে ছবিটি প্রদর্শনের জন্য জিয়োহটস্টার ও প্রাইম ফোকাস স্টুডিওসের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের খবর সামনে এসেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ওটিটিতে সিনেমাটি দেখতে দর্শকদের নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন ফি ছাড়াও আলাদা অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
সাধারণত ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মাসিক বা বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন নিয়ে নির্দিষ্ট ক্যাটালগের সিনেমা ও সিরিজ দেখা যায়। তবে পে-পার-ভিউ পদ্ধতিতে দর্শকদের নির্দিষ্ট একটি সিনেমা দেখার জন্য আলাদাভাবে অর্থ দিতে হয়। ‘রামায়ণ’-এর ক্ষেত্রেও এমন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।
এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ঘরে বসে সিনেমাটি দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব দর্শকের পক্ষে সিনেমা হলে যাওয়া সম্ভব নয়, তাঁদের জন্য এটি বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। তবে ওটিটিতে ছবিটি দেখার নির্দিষ্ট তারিখ, মূল্য এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘রামায়ণ’-এর বিশাল ক্যানভাস, দৃশ্যায়ন ও বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস প্রথমে বড় পর্দায় দর্শকদের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত এ সিনেমায় масштаб, চরিত্রের উপস্থাপন এবং দৃশ্যনির্ভর গল্প বলার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিগ বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রে প্রেক্ষাগৃহের বড় পর্দা ও উন্নত শব্দব্যবস্থা দর্শকদের আলাদা অভিজ্ঞতা দিতে পারে। সে কারণে নির্মাতারা প্রথমে সিনেমা হলে দর্শক টানতে চান। এরপর ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তির মাধ্যমে আরও বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জিয়োস্টারের চেয়ারপারসন নীতা আম্বানির বক্তব্য অনুযায়ী, রামায়ণ ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ কাহিনি মানুষের নীতি, মূল্যবোধ ও আদর্শের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এ কাহিনি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রামায়ণের মতো মহাকাব্যকে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৃহৎ পরিসরের চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে পরিচিত কাহিনিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার সুযোগও রয়েছে। ফলে সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা শুধু তারকাদের উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কাহিনির উপস্থাপন ও নির্মাণশৈলীও আগ্রহের বড় কারণ।
সিনেমাটির প্রযোজক নমিত মালহোত্রার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘রামায়ণ’-এর অভিজ্ঞতা বড় পর্দায় সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা সম্ভব। তবে প্রেক্ষাগৃহের সীমিত আসনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব দর্শকের পক্ষে হলে গিয়ে সিনেমা দেখা সম্ভব হয় না। এ কারণে ডিজিটাল মাধ্যমকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দর্শকেরা ঘরে বসেও সিনেমাটি দেখার সুযোগ পান।
পে-পার-ভিউ ব্যবস্থা চালু হলে দর্শকেরা নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার পাশাপাশি শুধু পছন্দের এই সিনেমাটি দেখার জন্য অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। তবে এ ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে নির্ধারিত মূল্য, দর্শকদের আগ্রহ এবং ওটিটি মুক্তির সময়সূচির ওপর।
সব মিলিয়ে, রণবীর কাপুর অভিনীত ‘রামায়ণ’কে কেন্দ্র করে প্রেক্ষাগৃহ ও ডিজিটাল—দুই মাধ্যমেই দর্শক আকর্ষণের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। প্রথমে বড় পর্দায় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পর পে-পার-ভিউয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে দেখার সুযোগ তৈরি হলে ছবিটির দর্শকসংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে ওটিটি মুক্তির চূড়ান্ত সময়সূচি, মূল্য ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত ঘোষণার জন্য দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে।
পড়ুন: ২৩ অক্টোবর ভারতে মঞ্চস্থ হবে নাটক “যাত্রাপালা”
ইমি/


