সবুজায়নের বার্তা নিয়ে নেত্রকোনায় সস্ত্রীক বৃক্ষরোপণ করলেন সিনিয়র সচিব

সবুজ এক চিলতে প্রাণ, আর সেই প্রাণের ছোঁয়া ছড়িয়ে দিতেই যেন উদ্যোগী হলেন রাষ্ট্রের শীর্ষ এক কর্মকর্তা। যান্ত্রিকতার যুগে যখন সবুজের বড্ড অভাব, তখন পরিবেশ রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনা সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে তিনি এবং তার সহধর্মিণী পরম যত্নে রোপণ করলেন ঔষধি গুণসম্পন্ন দুটি নিম গাছের চারা।

বিজ্ঞাপন

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্নিগ্ধ ও মনোরম পরিবেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়। সাধারণত দাপ্তরিক ব্যস্ততায় সময় কাটে যাদের, তারাই যখন মাটির কাছাকাছি এসে গাছের চারা হাতে তুলে নেন, তখন তা সাধারণ মানুষের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। এদিন সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক নিজ হাতে একটি নিমের চারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে রোপণ করেন। একই সময়ে প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে তার সহধর্মিণীও নিজ হাতে আরেকটি নিমের চারা রোপণ করে সবুজায়নের উদ্যোগে শরিক হন।

পরিবেশবান্ধব চমৎকার উদ্যোগে তাদের সঙ্গী হয়েছিলেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এমন কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন সাধারণ ও আন্তরিক উদ্যোগ উপস্থিত সকলের মাঝেই ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করে।

বৃক্ষরোপণ শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক গাছ লাগানো ও নিম গাছের বহুমুখী উপকারিতার বিষয়ে বলেন,“পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। নিম অমূল্য ঔষধি গাছ, যা স্বাস্থ্য ও প্রকৃতি উভয়ের জন্যই অত্যন্ত উপকারী। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে আমাদের সবাইকে বেশি করে নিমের মতো উপকারী গাছ লাগাতে হবে।”

সচেতন মহলের মতে, সমাজের উঁচু স্তরের মানুষদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে। গাছ কেবল পরিবেশের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং এটি আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান নিয়ামক। নেত্রকোনা সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে রোপিত নিম গাছগুলো আগামী দিনে ডালপালা মেলে যেমন প্রশান্তির ছায়া দেবে, তেমনি এর ঔষধি গুণাগুণও মানুষের উপকারে আসবে। প্রকৃতি বাঁচলে, বাঁচবে মানুষ- এই অমোঘ সত্যটিই যেন আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিল স্নিগ্ধ বিকেলটি।

পড়ুন:৪৩০ রান টপকিয়ে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন